আজ শুক্রবার (স্থানীয় সময় ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারীর পর এবার আবার হজের স্বাভাবিক রূপ ফিরে এসেছে। এ বছর হজে অন্তত ১০ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

শুক্রবার এ ময়দান ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার) ধ্বনিতে মুখরিত।

হজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। সারা দিন ইবাদতে মশগুল থাকবেন। বৃহস্পতিবার সারা দিন তারা মিনায় থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার ফজরের নামাজ আদায় শেষে তারা মিনা থেকে রওয়ানা দিয়েছেন আরাফাতের দিকে। আরাফাতে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা পাঠ করা হবে।

আরাফাতের ময়দান তিন দিকে পাহাড়বেষ্টিত। মাঝে দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রস্থের সমতল ভূমি। আরাফাতে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা: জাবালে রহমতের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। পৃথিবীতে এসে হজরত আদম আ: ও হজরত হাওয়া আ:–এর পুনর্মিলনও হয়েছিল এ ময়দানে।

শুক্রবার ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের এ ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজিরা। পরে এ ময়দান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে। পর দিন শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে আবার মিনায় ফিরবেন। মিনায় এসে বড় শয়তানের উদ্দেশে সাতটি পাথর মারবেন, দমে শোকর বা কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড়ও বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মসজিদুল হারামে গিয়ে কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। এ ছাড়া সাফা-মারওয়া সাঈ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। তাওয়াফ ও সাঈ শেষে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানের উদ্দেশে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এভাবেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার মিনায় যাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে হজের কার্যক্রম। আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে শুক্রবার হজের খুতবা দেয়া হবে। এবার খুতবা দেবেন শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল ঈসা। একজন সৌদি রাজনীতিক এবং দেশটির সাবেক বিচারমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি ‘রাবেতাতুল আলামিল ইসলামীর’ (দ্য মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ) সেক্রেটারি জেনারেল ও ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক হেলাল অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার খুতবা দেয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী নানা সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের দাবি- তিনি ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী।

প্রতিবছর হজের দিন কাবা শরিফের গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও কাবায় নতুন গিলাফ পরানো হবে।