পাকিস্তানের প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন আয়েশা মালিক। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) এই শপথবাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে কোনো নারী হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

শপথবাক্য পাঠের পর সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করেন প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ। খবর দ্য ডনের।

নিজের যোগ্যতাবলে না কি নারী হিসেবে আয়েশা মালিক সর্বোচ্চ আদালতে জায়গা করে নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচারপতি আয়েশা মালিক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে যোগ্য ছিলেন, আর তাই এই পদ প্রাপ্তির কৃতিত্ব কেবল তার নিজেরই।

প্রসঙ্গত, নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের দিক দিয়ে লাহোর হাইকোর্টে আয়েশা মালিক চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। আর তাই বার কাউন্সিল এবং সহযোগীরা নিয়ম ভাঙার অভিযোগে তার নিয়োগের বিরোধীতা করে আসছিলেন।

পাকিস্তানের জ্যুডিশিয়াল কমিশন (জেসিপি) এই মাসের শুরুর দিকে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এক উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পর পাঁচজনের মধ্যে চারজনের ভোটে আয়েশা মালিককে নির্বাচিত করে।

এরপর জেসিপি আরও এক আলোচনা সভা আয়োজন করে। এর আগে মতানৈক্যের কারণে গত বছরের সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে জেসিপি তার নিয়োগ বাতিলে কমিশনকে বাধ্য করে।

সেসময় চারজন তার নিয়োগের পক্ষে এবং চারজন তার নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দেয়। একইসঙ্গে সুপ্রমি কোর্ট বার এসোসিয়শনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল লতিফ আফ্রিদি বয়সের নিয়ম ভেঙ্গে মালিকের নিয়োগের বিরোধীতা করে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেয়।

বিচারপতি আয়েশা মালিক প্যারিস ও নিউইয়র্কের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তিনি লাহোরে পাকিস্তান কলেজ অব ল-এ আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে হার্ভার্ড ল স্কুল কেমব্রিজ থেকে এলএলবি পাস করেন।