ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আরবের কোনো ক্লাবে ডাক পেলেন ইসরায়েলি ফুটবলার। সোমবার ইসলায়েলের মিডফিল্ডার দিয়া মোহামেদ সাবাকে নিজেদের দলে নিয়েছে দুবাইয়ের ফুটবল ক্লাব আল নাসের।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আনার দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঘটলো এই ঘটনা। ইহুদী অধ্যুসিত দেশটির এক ফুটবলারকে নিজেদের ক্লাবে ভিড়িয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গতি আরও ত্বরান্বিত করলো আরবের গালফ লিগের ক্লাবটি।

২৮ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারকে দুই বছরের জন্য কিনে নিয়েছে আল নাসের। তবে চুক্তি সম্পন্ন করতে অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি ক্লাবটি। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চাইনিজ ক্লাব গুয়াংজু আর এন্ড এফ থেকে দুই মৌসুমের জন্য সাবাকে পেতে ২৫ লাখ ইউরো খরচ করেছে আল নাসের।

সোমবার নিজেদের টুইটার প্রোফাইলে সাবাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আল নাসের। এছাড়া আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘দিয়া সাবার সঙ্গে সকল কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে আল নাসের। আজ সকালে সফলভাবে মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তার সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করা হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবাকে দলে নেয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছে আল নাসের। যেখানে ক্লাবের মাঠে আল মাকতুম স্টেডিয়ামে দলের ৯ নম্বর জার্সি পরে খালি মাঠেই কিছু স্কিলস দেখানোর পাশাপাশি ড্রিবলিং করেছেন সাবা। এই ভিডিও দিয়েই নিজেদের নীল দুর্গে সাবাকে স্বাগত জানিয়েছে দুবাইয়ের ক্লাবটি।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সাবা জন্মগ্রহণ করেছে উত্তর ইসরায়েলে। ২০১২ সালে তিনি যোগ দেন ইসরায়েলি ক্লাব মাকাবি তেল আবিবে। এরপর ২০১৪ সালে মাকাবি নেতানিয়াতে যোগ দেয়ার আগে ইসরায়েলের আরও তিনটি ক্লাবে কয়েক ম্যাচ করে খেলেছেন সাবা। ইসরায়েল জতীয় দলের জার্সি গায়ে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন দিয়া সাবা।

চার মৌসুম মাকাবি নেতানিয়াতে খেলার পর ২০১৮ সালে চাইনিজ ক্লাব হাপোয় বিয়ের শেভার জার্সি গায়ে জড়ান এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। সেখানে এক মৌসুম খেলেই চলে যান চিনের আরেক ক্লাব গুয়াংজু আর এন্ড এফে। আর সবশেষ তিনি চুক্তিবদ্ধ হলেন দুবাইয়ের ক্লাব আল নাসেরের সঙ্গে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজেদের ঘরের মাঠে আজমানের বিপক্ষে একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে আল নাসের। তবে সেই ম্যাচে দেখা যাবে না দিয়া সাবাকে। কেননা তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি ফিরে গেছেন। আগামী সপ্তাহে দলের যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।

আগামী মাসে শুরু হতে চলেছে আরব আমিরাতের ঘরোয়া মৌসুম। করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চে স্থগিত করা হয় ২০১৯-২০ মৌসুম। পরে গত জুনে বাতিল করা হয় সেটি।