বর্ষা মৌসুমে সবুজ অরণ্যে ঘেরা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বান্দরবান। চারদিকে উঁচু-নিচু পাহাড়ের ভাঁজগুলো ঢেকে আছে মেঘের আড়ালে। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো পর্যটক।

বিশে^র মহামারি করোনাভাইরাসের থাবা থেকে রক্ষা পায়নি পাহাড়ও। তাই করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে মার্চের মাঝামাঝি থেকে প্রায় পাঁচ মাস ধরে পর্যটনকেন্দ্র ও পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

গত ২০ আগস্ট জেলা প্রশাসনের এক বিবৃতিতে দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পর পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়ছে। করোনার ভয় কাটিয়ে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য পর্যটন নগরী বান্দরবান।

বান্দরবানের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলোÑ মেঘলা, নীলাচল, নীলগিরি, স্বর্ণজাদি, রামজাদি, শৈলপ্রপাত, বনপ্রপাত, শীলবান্ধা ঝরনা, দেবতাকুম, চিম্বুক, শুভ্রনীলা, থানচির রেমাক্রি, নাফাকুম, রুমার বগালেক, কেউক্রাডং, লামার মিরিঞ্জা, আলীকদমের আলীর সুড়ঙ্গসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট। তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তিন মাস বর্ষাবাসের কারণে বৌদ্ধ ধর্মীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বিশেষ করে রামজাদি, স্বর্ণজাদি, নংদগ্রীজাদি আপাতত বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা পর্যটন স্পট মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুকÑ এসব জায়গায় ভিড় করছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা বেশিরভাগ পর্যটক শহর থেকে সবচেয়ে কাছের পর্যটন স্পট নীলাচলের সন্ধ্যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে আসেন। যেখানে দেখা গেছে কেউ কেউ প্রকৃতির কোলাহলমুক্ত বাতাসে গোলটেবিলে বসে গল্পগুজব করছেন, কেউবা এদিক- সেদিক ঘুরে ছবি তুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজধানী ঢাকা থেকে সপরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা মোহাম্মদ সরোয়ার বলেন, কয়েক মাস করোনার কারণে কোথাও বের হতে না পেরে এক ধরনের বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলাম। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নীলাচলে এসে মুক্ত বাতাসে ঘোরাঘুরি করে খুব ভালো লাগছে।

আরেকজন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে বেড়াতে আসা সুমিতা ধর বলেন, বিয়ের পর এই প্রথম প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি হানিমুন স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছি প্রকৃতিঘেরা বান্দরবান নগরকে। এখানে এসে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর উঁচু পাহাড়ের ভাঁজের সঙ্গে মেঘের ভেলার দৃশ্য দেখে এত আনন্দ পাচ্ছি, তা বলার ভাষা নেই, যা ছবি তুলেছি সেগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখব।

নীলাচলে দায়িত্বরত টিকেট সংগ্রহকারী আদিত্য বড়ুয়া জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পর প্রথম দিনে প্রায় ৫শর মতো টিকেট বিক্রি হয়েছে। এরপর প্রতিদিন গড়ে ৮শ থেকে প্রায় ১ হাজার টিকেট বিক্রি হচ্ছে।

জেলার আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনার সংক্রমণ এড়াতে দীর্ঘ প্রায়