জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯১তম জন্মদিন আজ। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈশব থেকেই তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যোগ্য সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে ছিলেন মহীয়সী এই নারী। যে কারণে রাজনৈতিক জীবনে সফল হয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট। গোপালগঞ্জের অজপাড়া গাঁ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফজিলাতুন্নেসা। বাবা শেখ জহুরুল হক এবং মা হোসনে আরা বেগমের তিন সন্তানের সবচেয়ে ছোট ফজিলাতুন্নেসা। মা বাবা আদর করে ডাকতেন রেণু।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবা মাকে হারিয়ে দাদা, শেখ কাশেমের কাছে বড় হন তিনি। সাত বছর বয়সে দাদা মারা গেলে বঙ্গবন্ধুর মায়ের কাছে চলে আসেন ফজিলাতুন্নেসা। তারপর মাত্র ১৩ বছর বয়সে চাচাতো ভাই শেখ মুজিবের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে থেকেই পাশে ছিলেন যোগ্য জীবনসঙ্গী হিসেবে।

দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে। তাতে কখনোই দমে যাননি, একা হাতে সংসার সামলেছেন। তবুও বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে শেখ মুজিবকে কখনোই হার মানতে দেননি।

শুধু নিজ পরিবারই নয়, খোঁজ রাখতেন প্রতিবেশী এবং আত্বীয়-স্বজনদেরও। আলাদা করে দেখতেন না কাউকে। বাঙালির স্বাধীনতার জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের সর্বস্ব।

শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে দলের নেতাকর্মীদের কখনোই বিভ্রান্ত হতে না দিয়ে সমস্যা সমাধান করতেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা। বঙ্গবন্ধুর পেছনে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন মহীয়সী এই নারী।

একজন যোগ্য জীবনসঙ্গীর উদাহরণ তৈরি করেছিলেন শেখ মুজিব। পচাত্তরের ১৫ আগস্ট একই সঙ্গে শহিদ হন তারা। আর তাই ইতিহাসের পাতায় শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নাম অমোচনীয়।