বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজার গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাসায় ফিরে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার পার্শ্বর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন রুবেল (১৯) ও জিসানুল ইসলাম (২০)।

ওই কিশোরী গত ৩ জুন চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।   এ ঘটনায় অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি।

সিআইডি জানায়, বন্ধু জিসানুল ইসলামের আহ্বানে তার সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যান ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরী। সেখানে যাওয়ার পর ওই কিশোরীর সঙ্গে জিসান দেখা করেননি।

এ সুযোগে অটোচালক রুবেল নিজেকে জিসানের বন্ধু পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করানোর আশ্বাস দেন। পরে অটোচালক রুবেল ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালীবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।

ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, ১০ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর (১৫) বন্ধু জিসান চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় মিষ্টির কারখানায় কাজ করতেন।

ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে এক বছর ধরে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। 

পরে জিসানুল ইসলাম আরো বেশি বেতনে কক্সবাজারে চাকরি পেয়ে চলে যান। বন্ধু জিসানের আমন্ত্রণেই গত ৩১ মে এক বান্ধবীসহ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যায় সে।

কিন্তু বন্ধু জিসান ব্যস্ত আছেন, দেখা করতে পারবে না বলে জানান এবং তাদেরকে চট্টগ্রাম ফিরে যাওয়ার জন্য বলেন। তখন বান্ধবীসহ ওই কিশোরী একটি টমটম নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে যান চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য।

টমটম চালক রুবেল (১৯) ঘটনা জানার পর তাদেরকে আশ্বস্ত করেন জিসান তার পূর্ব পরিচিত। যেভাবেই হোক জিসানের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেবেন। 

টমটম চালক রুবেলের কথায় আশ্বস্ত হয়ে বান্ধবীকে চট্টগ্রামের বাসে তুলে দিয়ে নিজে থেকে যায় ওই কিশোরী। রুবেল জিসানকে খুঁজে বের করার অভিনয় করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। রাতে জিসান ‘হোটেল আলামিন’-এ দেখা করবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হোটেলে রুম নিয়ে দেন রুবেল।

রাতে জিসান এসেছে জানিয়ে হোটেলের রুমের দরজা খোলার জন্য তাকে বললে সে দরজা খুলে দেয়। তখন রুবেল ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে কৌশলে পালিয়ে যায়।

এসএসপি মুক্তা ধর বলেন, নিরুপায় ওই কিশোরী গত ১ জুন চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফিরে আসে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ৩ জুন নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

এ ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের বোনের দায়েরকৃত মামলায় তদন্তের ধারারাবাহিকতায় জিসানুল ইসলাম ও টমটম চালক রুবেলকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়।