তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভালো। এমনকি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়েও ভালো।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আজকের বৈঠকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছেন। উনারা(বিএনপি) মানবাধিকারে কথা বলে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে পেট্রাল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, অনেক দেশের চেয়ে ভালো।

তিনি বলেন, আমি এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেতে চাই বাংলাদেশর মানবাধিকার অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো।

আমি উল্লেখ করছি কিভাবে ভালো, আমাদের দেশে গুয়ানতানামো কারাগারের মতো একটি কারাগার নাই, যেখানে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। আমাদের দেশে মা বাবার কাছ থেকে শিশুকে আলাদা করে দিনের পর দিন বছরের পর বছর রেখে দেওয়া হয়নি কোথাও, যেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেখে দেওয়া হয়। যখন শিশুরা বড় হয়ে তাদের মা বাবাকে চিনতে পারে না। কারণ তাদের আলাদা করে রেখে দেওয়া হয়েছিলো।

আমাদের দেশে জর্জ ফ্লয়েডের মতো কিলিং হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৭ হাজারের বেশি মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী ইরোপের মানবাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ব্রাসেলসে রাস্তায় গুলি করে বোমাবাজদের হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দেশে যখন এই ধরণের এনকাউন্টারে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়, তখন নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়। আমাদের দেশের মানবাধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো।

বাজেট প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা হয় প্রায়ই। আমি মুদ্রাস্ফীতির একটি পরিসংখ্যান এই মহান সংসদে উল্লেখ করতে চাই। ২০২২ সালে ভাতের মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে ৭.৭৯ ভাগ, নেপালে ৭.৮৭ ভাগ, ১৩.৮ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্রে ৮.৬ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৯.১ শতাংশ, জার্মানি ৭.৯ শতাংশ, রাশিয়ায় ১৭.১ শতাংশ, তুরস্কে ৭৩.৫ শতাংশ, কানায়ায় ৬.৮ শতাংশ, নেদারল্যান্ডে ৯.৬ শতাংশ আর বাংলাদেশে গত ১২ মাসে মে মাস পর্যন্ত ৫.৯৯ শতাংশ।

আর নিত্য পণ্যের দাম সমন্ত পৃথিবীতে বেড়ে করোনা এবং করোনার পর পরই ইউক্রেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে। কয়েকটি পণ্যের মূল্যেও হিসাব আশেপাশের দেশের সাথে এই মহান সংসদে উপস্থাপন করছি। বাংলাদেশ মোটা চালের মূল্য হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা। যেখানে ভারতে হচ্ছে ৫৯ থেকে ৬৫ রুপি, পাকিস্তানে ৭৭ থেকে ১২৫ রুপি, নেপালে ১০৫ থেকে ১২৫ রুপি, শ্রীলংকায় ২১৬ রুপি। মসুর ডালের দাম বাংলাদেশে ৯৫ বা ১০০ টাকা কোজি। ভারতে সেটি ভারতীয় রুপিতে ৯৭ থেকে ১০২টাকা, সেটি বাংলাদেশের টাকায় ১১০ টাকার উপরে, ১০-১৫ টাকা। পাকিস্তান ১০২ থেকে ১১২ রুপি, নেপালে ১৭৫ থেকে ১৮০ রুপি, শ্রীলঙ্কায় ১২৬ রুপি। সোয়াবিন তেল যেটি নিয়ে অনেক কথা হয় সেটি বাংলাদেশে আজকের বাজার ১৮০ টাকা। ভারতে ১৮০ থেকে ২৫০ রুপি, পাকিস্তানে ৬০৫ রুপি। নেপালে ৩২০ থেকে ৩৭০ রুপি, শ্রীলংকায় ৮৪০ থেকে ৮৮০ রুপি। তারা দ্রব্য মূল্যেও হিসাব দেন তাদের আশেপাশে দেশের দ্রব্যমূল্যের দিকে তাকাতে বলি।