বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অত্যন্ত স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কক্সবাজারের টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেছেন, ‘বিজিবি অবৈধভাবে কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেবে না, ঢুকতেও দেবে না। আমরা মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

(৬ ফেব্রুয়ারি) শনিবার সন্ধ্যায় ৬টায় কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ বিজিবির চৌকি সীমান্ত সড়কে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত জলসীমানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিবির এই অধিনায়ক। এসময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর রবায়াৎ কবীর, বিজিবির এডি নাজমুল হুদা প্রমুখ।

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের বিজিবি সৈনিকদের মনোবল চাঙ্গা করতে বাহিনীর মহাপরিচালক এই অঞ্চল সফর করেছেন জানিয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘এখনও এ-রকম কোনও পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। সীমান্তে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির সামগ্রিক প্রস্তুতি দেখে, মহাপরিচালক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় নদীর সীমানায় বিজিবির টহল পর্যবেক্ষণ করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সেনা অভ্যুত্থান মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ বিষয়, এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। সেদেশে সীমান্তে জনবল বৃদ্ধির খবর আমাদের জানা নেই। আমরা টহল করছি, সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। নজরদারি রাখছি।’
তিনি জানান, ‘সেদেশের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপির) সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

সেন্টমার্টিনের শাহ পরীর দ্বীপ এলাকায় এসে নিজেই নৌ জাহাজের চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার পরিস্থিতি দেখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। (শনিবারের ছবি)” />সেন্টমার্টিনের শাহ পরীর দ্বীপ এলাকায় এসে নিজেই নৌ জাহাজের চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার পরিস্থিতি দেখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। (শনিবারের ছবি)

‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের পরিস্থিতি এখন হয়নি। অবৈধভাবে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’ পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও অনুপ্রবেশসহ সীমান্তের সব ধরনের অপরাধ দমনে স্থানীয়দের সহায়তা চান তিনি।

এদিকে, মিয়ানমারে এমন পরিস্থিতিতে আরও রোহিঙ্গা যাতে না ঢুকতে পারে সেটা নিশ্চিত করার দাবি জানান স্থানীয়রা। টেকনাফের সীমান্তবর্তী বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নতুন করে যাতে মিয়ানমার থেকে কোনও অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে সরকারকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। কেননা কয়েক দফা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়দের জনজীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।’

এদিকে শনিবার সকালে হেলিকাপ্টার যোগে এসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত জলসীমানা পরিদর্শন শেষে বিকেলে বিজিবির মহাপরিচালক কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।