পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট সাইক্লিং -এর উদ্যোগে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ‘নিরাপদ ভ্রমণ করুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন’ স্লোগানে র‍্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজক পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, পরিবেশের অন্যতম প্রধান বাহন সাইকেল। কিন্তু আমরা এই সাইকেল চলাচলকে নিরাপদ করতে পারিনি। আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হবে, নিজেরা নিরাপদে সাইকেলে চলাচল করবো এবং অন্যের অসুবিধার কারণ হবো না।

তিরি আরও জানান, লেনসহ সাইকেল চলাচলের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সাইকেল সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে।

যারা সাইক্লিং করেন তারা কখনো মাদকাসক্ত হন না উল্লেখ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, সাইক্লিস্টরা নিজেদের সকল অপকর্ম থেকে দূরে রাখেন। সাইকেল চালানো শুধু শারীরিক ব্যায়াম নয় এটি সুন্দর মানসিকতা গড়ে উঠতে সহায়ক। তাই প্রতিটি পরিবার থেকে সাইকেল চালানোর বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা উচিত।

তিনি আরও জানান, ধীর গতিতে হলেও বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন শিল্পের এই অগ্রগতি।

বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট সাইক্লিং -এর প্রধান সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম টুব্বুসের সভাপতিত্বে উক্ত সাইকেল র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট সাইক্লিং -এর সমন্বয়ক রজিনা আক্তার দুনিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হাসান, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফ আহমেদ, বিডিক্লিক এর সহ-সভাপতি দিদার হোসেন পাটোয়ারী, গ্রিণফোর্স এর সদস্য আহসান হাবীবসহ আরও অনেকে।

র‍্যালিতে পর্যটনে সাইকেল ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য কিছু সুপারিশ দেয়া হয়। সুপারিশসমূহ হলো-

১. বাসা থেকে কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সাইকেল নেটওয়ার্ক তৈরি করা

২. সাইকেল বান্ধব অবকাঠামো তৈরি

৩. সাইকেল আরোহীদের আরও সচেতনভাবে সাইকেল চালানোর জন্য সর্তক করা এবং নিয়ম মেনে সাইকেল চালাতে উৎসাহিত করা।

৪. সাইকেল লেন ব্যবহার করার প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

৫. পরিবেশবান্ধব এই বাহনটি ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাইক্লিং-এর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৬. দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য নিরাপদ সড়ক ও সাইকেল লেনের ব্যবস্থা করা।

৭. যে স্বল্প পরিমাণ সাইকেল লেন আছে তা দখলমুক্ত করে নিরাপদ সাইক্লিং করার নিশ্চয়তা প্রদান করা।

৮. পারিবারিকভাবে সন্তানকে সাইকেল চালানোয় উৎসাহিত করার জন্য জনমত গড়ে তোলা

৯. দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সাইকেল পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রাখা

১০. দেশী-বিদেশী ট্যুরিস্ট সাইক্লিস্টদের সরকারি সুযোগ সুবিধায়  অন্তর্ভুক্ত করা