ঘটনা ঘটিয়েছিলেন জুন মাসে। ডিসেম্বরের শীতে সারা বিশ্বে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিফকেস’কে বিয়ে করেছেন এক রাশিয়ান সুন্দরী! তার সঙ্গে নাকি যৌন সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন। এমনটাই দাবি করেছেন ২৪ বছরের রেইন গর্ডন। ভালোবেসে স্বামীর নাম রেখেছেন গিডিয়ন।

দু’জনের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১৫ সালে এক হার্ডওয়্যার স্টোরে। দেখা মাত্রই ব্রিফকেসের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন রাশিয়ান তরুণী। নভেম্বরে প্রথম চুম্বন। এর আগে রক্তমাংসের মানুষের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, কিন্তু ব্রিফকেসে চিরন্তন প্রেম খুঁজে পেয়েছেন তরুণী। আজব, বিচিত্র- এই প্রতিক্রিয়াই দেবেন অনেকে। হাসির রোলও উঠবে। কিন্তু কারণ জানতে চাইবেন কি? কেনো এভাবে জড় বস্তুর প্রতি যৌন আকর্ষণ হয়? প্রাণহীন জিনিসে আসক্ত হয়ে পড়েন? বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অবজেক্টোফিলিয়া বা অবজেক্ট সেক্স্যুয়ালিটি।

কী এই অবজেক্টোফেলিয়া? কেনোই বা তা হয়? কেন ৪৫ বছরের আমেরিকান মহিলা ক্যারোল ট্রেন স্টেশনকে বিয়ে করেন? ২০০৭ সালে এরিকা আইফেল নামের আরেক মার্কিন নারী কেন দাবী করেন তিনি আইফেল টাওয়ারকে বিয়ে করেছেন? কেনই বা জাপানের লি জিন গুই পুরোহিত ডেকে বালিশকে বিয়ে করেছিলেন? এর এক নয় একাধিক কারণের কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় অত্যধিক লাজুক মানুষদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। সামনের মানুষকে কিছুতেই মনের কথা বলে উঠতে পারেন না তারা। ফলে প্রেম কিংবা ভালোবাসার সম্পর্কও গড়ে ওঠে না। জীবনে একটা শূন্যস্থান তৈরি হয়। আর তা পূরণ করতে জড় বস্তুর প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।

একেক ক্ষেত্রে আবার এর নেপথ্যে অতীতের কোনো নিদারুণ দুঃখের ইতিহাস থাকে। ছোটবেলায় নিগ্রহে ঘটনাও এর কারণ হতে পারে। মনের ভিতরের কষ্ট জমতে জমতে এই মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। জড় বস্তুর থেকে মানসিক আঘাত পাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। তাই অনায়াসে নির্ভরতা তৈরি হয়।

অ্যানিমিজম বা সর্বপ্রাণবাদ। বিশেষজ্ঞদের মতে এই কারণই সবচেয়ে প্রবল। জড়-জীব নির্বিশেষে বিশ্বের সমস্ত কিছুতে প্রাণ রয়েছে, এমন বিশ্বাস অনেকের মনে গড়ে ওঠে। এর প্রতিফলন ফিকশনাল ফিল্মগুলোতেও দেখা যায়।

নির্দিষ্ট আকারের বস্তুর প্রতি প্রেম তৈরি হয়। ঠিক যেমন, ২০০৭ সালে এরিকা আইফেল দাবি করেছিলেন তিনি আইফেল টাওয়ারকে বিয়ে করেছেন। আবার রাশিয়ার রেইনও প্রথম দর্শনেই ব্রিফকেসের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন।

কিছু মানুষ আবার একপেশে ভালোবাসা পছন্দ করেন। এদের ইগো এতটাই প্রবল হয় যে উলটো দিকের মানুষের কোনো কথাই সহ্য হয় না। ফলে জড়বস্তুর প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। কারণ তার সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা নেই।