বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতের ৩ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিউরো সার্জন ডা. লক্ষী নারায়ণ ত্রিপাঠী, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠি এবং গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্ট ডা. অরুণাভ রায়। তারা বলেছেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থারও উন্নয়ন হয়েছে। নিউরোসায়েন্স, অনকোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসায় বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ভারতের এই ৩ বিশেষজ্ঞ হলেন,

ডা. লক্ষী নারায়ণ ত্রিপাঠী মেডিকা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর ও নিউরোলজির বিভাগীয় প্রধান। ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠি হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির ডিরেক্টর। ডা. অরুণাভ রায়ও হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্স। তিনি গাইনোকোলজিক অনকোলজি বিভাগের প্রধান।

মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হসপিটাল কতৃর্ক আয়োজিত ফ্রি স্বাস্থ্য সচেতনমূলক আলোচনা সভায় অংশ নিতে সম্প্রতি তারা ঢাকায় আসেন। সভা শেষে গত শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক আলোচনায় তারা একথা বলেন।

ডা. লক্ষী নারায়ণ ত্রিপাঠী বলেন, গত ২০/২২ বছর যাবত আমি বাংলাদেশে যাতায়াত করছি। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়গুলোকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। নিউরোসার্জন বা নিউরো সায়েন্টিস্ট হিসেবে আমি বলব, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিতে কিংবা আরো উন্নত চিকিৎসা করাতে অনেকেই বিদেশে যাচ্ছেন। কমপ্লিকেশন আমাদের হাতেও হয়। যারা বলেন, তাদের কমপ্লিকেশন হয় না, আমি বলবো, তারা সত্য বলেন না।

ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠিও দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক রোগী বিদেশে বিশেষ করে ভারত বা কলকাতায় যাচ্ছেন। মেডিকা হাসপাতালে ৬/৭ বছর যাবত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা হচ্ছে। এসব রোগীর মধ্যে বাংলাদেশের রোগীও আছে। আমার বিভাগেই প্রতি মাসে বাংলাদেশ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। ডা. অরুণাভ রায় জানান, বাংলাদেশে ক্যান্সার (অনকোলজি) চিকিৎসায় অনেক উন্নতি করেছে।

বাংলাদেশে তাদের আসার কারণ এবং মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হসপিটাল সম্পর্কে তারা জানান, মেডিকা হাসপাতাল ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি ৭টি চেইন হাসপাতাল নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মেডিকার রয়েছে ৮টি ইন্সটিটিউট ও ২১টি স্বয়ংক্রিয় বিভাগ। প্রায় ৬ শতাধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক বছরে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি রোগীর সেবা দিয়ে আসছে।

বর্তমানে মেডিকা তাদের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালু করেছে মেডিকা অনকোলজি নামে। যা কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং রাঁচিতে করা হয়েছে। এখানে রোবটিক সার্জারির মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

মেডিকা হাসপাতালের চিফ মার্কেটিং অফিসার যোগেশ যোশি জানান, বাংলাদেশি রোগীদের এখানে রয়েছে ৭টি তথ্য কেন্দ্র। এখান থেকে বাংলাদেশি রোগীরা বিনামূল্যে পেতে পারেন চিকিৎসকের এপয়েন্টমেন্ট, ভিসা লেটার, টেলি মেডিসিন সেবা ও চিকিৎসা খরচসহ যে কোনো ধরনের সেবা।

বাংলাদেশ থেকে যেসব ক্যান্সার রোগী মেডিকা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাবেন তাদের মোট খরচের ১০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে।