কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তরে বিরোধিতা না করে বরং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বা কোনো প্রলোভন দেখিয়ে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। যেসব রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে রাজি হচ্ছে কেবল তাদেরকেই সেখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

গত ৪ ডিসেম্বর এক হাজার ৬৪২ জন এবং ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভাসানচরের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ বছরের পুরোনো ভাসানচর পুরোপুরি সুরক্ষিত। আম্পানের সময়ও এ দ্বীপে কোনো ক্ষতি হয়নি। সেখানে আবাসন, সুপেয় পানি, চিকিৎসাসহ নানা ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট যারা থাকবেন তাদের জন্য খুব ভালো ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি রাখাইনে ফেরত নিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দেশে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই অবস্থান করছিল।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।

গত বছর দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কায় ফিরতে রাজি হয়নি রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত এক লাখকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচরে আবাসন নির্মাণ করে সরকার। দ্বীপটিতে অনেক আগ থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনা করছিল সরকার। কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের চাপে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না।

গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্প থেকে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল সেখানে পাঠায় সরকার। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় চার শতাধিক পরিবারের ১ হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।