‘মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বৈধ ও অবৈধ সকল প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সর্বস্তরের অভিবাসী কর্মীদের বিনামূল্যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়া নাগরিকদের যখন যে প্রক্রিয়ায় এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে সকল বিদেশী অভিবাসীদেরও একসাথেই এই টিকা দেয়া হবে। এক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবে। আমরা যদি সব বিদেশীদের করোনাভাইরাসের টিকা না দেই তাহলে এই করোনা মহামারী দমন করা সম্ভব হবে না।’

এ সময় তিনি আরো বলেন, এ লক্ষে সরকার কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে পেনাং প্রদেশে ১০০টি ক্লিনিক প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই বিষয়টি দেশটির মন্ত্রীসভার এক বিশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদেরও টিকা দেয়া হবে। মালয়েশিয়ার সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের কোভিট- ১৯ ভ্যাকসিন চুক্তি অনুযায়ী ক্রয় সম্পন্ন করেছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে এই টিকার প্রথম চালান দেশে এসে পৌঁছাবে। তখন যত দ্রুত সম্ভব এই ভ্যাকসিন গণহারে দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এবং এই টিকা কার্যক্রমে শরণার্থী রোহিঙ্গারাও বাদ যাবে না।

মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী বিষয়ক মন্ত্রী খয়েরি জামালউদ্দিন আজ পৃথক বিবৃতিতে বলেছেন যে, জাতীয়ভাবে কোভিড -১৯ টিকা প্রদান কার্যক্রমে আওতাভুক্ত করা হয়েছে যেমন, বিদেশীদের মধ্যে কূটনীতিক, প্রবাসী, শিক্ষার্থী, বিদেশী স্বামী ও শিশু, বিদেশী সব সেক্টরের কর্মী ও শ্রমিক, ইউএনএইচসিআর (শরনার্থী) কার্ডধারীরা।

মালয়েশিয়ায় করোনা মোকাবেলায় চলছে জরুরি অবস্থা ও লকডাউন। গত বছরের চেয়ে এবার তৃতীয় ঢেউয়ে করোনার আক্রমণ ছিল ভয়াবহ। দেশটিতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ধারণা করা হয় প্রায় ১২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী রয়েছেন। এই মহামারীর কারণে দেশে যারা ছুটিতে আছেন তারা মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারছেন না এবং যারা মালয়েশিয়ায় আছেন তারাও ছুটিতে দেশে যেতে পারছেন না। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান চলমান থাকলেও মালয়েশিয়ায় এখনো শুরু হয়নি। আশা করা যাচ্ছে শ্রীঘ্রই এ কার্যক্রম শুরু হবে।