চট্টগ্রাম টেস্টে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থানে টাইগাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দ্বিতীয় দিন শেষে ওপেনার ব্রাথওয়েট (৪৯) ও এনক্রুমাহ বোনারের (১৭) ব্যাটে ভরে করে ২৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান করেছিল সফরকারীরা। এদিন ক্যারিবীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল (৩) ও শেন মোসলেকে (২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান তিনি।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারী) তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৫৯ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৪৩০ রানে করে। যার ফলে ১৭১ রানের লিড পেয়েছে টাইগাররা। বল হাতেও সফল মিরাজ।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের প্রথম বলেই উইকেট পায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান এনক্রুমাহ বোনারকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। আগেরদিনের ব্যক্তিগত ১৭ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি।

সেই রান আর বাড়াতে পারেননি বোনার। নাজমুল হোসেন শান্তর তালুতে বন্দি হয়ে ফিরে যান সাজঘরে।

এরপর দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে ফিরিয়ে দিলেন বাংলাদেশের স্পিনার নাঈম হাসান। নিজের সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ককে বোল্ড করেন তিনি। ৮৬ বলে ফিফটি করার পর উইন্ডিজ ওপেনার থেমেছেন ৭৬ রানে।

১১১ বলে ১২টি চারে এই রান করেন ব্র্যাথওয়েট। তৃতীয়দিনের তৃতীয় উইকেট হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যান কাইল মায়ার্সকে (৪০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি ও জার্মেইন ব্ল্যাকউডের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে শতরানের জুটি গড়ার পথে ছিলেন জশুয়া ডা সিলভা। কিন্তু  ক্রিজে শক্ত প্রতিরোধ গড়া ৯৯ রানের এই জুটি ভেঙে দিলেন নাঈম হাসান। ১৪১ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৪২ রান করে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন ডা সিলভা। সিলভার বিদায়ের তিন বল পর তিনিও উইকেট হারান একইভাবে। এই ব্যাটসম্যানের উইকেটটি অবশ্য পান মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪৬ বলে ৯ চারে ৬৮ রান করে লিটনের ক্যাচ হন ব্ল্যাকউড। তার বিদায়ে শেষ হয় দ্বিতীয় সেশন। ৫ বলে ২ উইকেট নিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দলীত ২৫৩ রানের মাথায় এই দুই ব্যাটসম্যানকে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

চা বিরতির পর আর লম্বা হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচ নেমে শেষ সেশনের তৃতীয় বলেই আউট হন ডানহাতি অফস্পিনার মিরাজের বলে। ডিপ মিডউইকেটে বদলি ফিল্ডার মোহাম্মদ মিথুনের ক্যাচ হন কোনও রান না করেই। মিরাজ তার পরের ওভারের প্রথম বলে রাকিম কর্নওয়ালকে বোল্ড করেন ২ রানে। এটি ছিল তার চতুর্থ উইকেট শিকার। পরে তাইজুল ইসলাম ৯৭তম ওভারে জোমেল ওয়ারিকানকে বোল্ড করে সফরকারীদের ২৫৯ রানেই গুটিয়ে দেন।