মিসরের প্রশাসনকে মুসলিম ব্রাদারহুড মুক্ত করতে দেশটির পার্লামেন্টে নতুন এক আইন পাস করা হয়েছে। সোমবার মিসরীয় পার্লামেন্টে সদস্যদের অনুমোদনের মাধ্যমে এই আইন পাস করা হয়।

নতুন আইন অনুযায়ী, মুসলিম ব্রাদারহুডসহ যেকোনো ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সাথে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হলে দেশটির সরকারি কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

রাষ্ট্রীয় আল-আহরাম পত্রিকায় জানানো হয়, ১৯৭২ সালে প্রণিত শৃঙ্খলাভঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের পদচ্যুত করার আইনের অধীন নতুন এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

তবে চাকরিচ্যুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬০ দিনের মধ্যে মিসরের প্রশাসনিক আদালতে তাদের চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরব বসন্তের প্রভাবে ২০১১ সালে মিসরে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটে। বিপ্লবের পরে ২০১২ অনুষ্ঠিত মিসরের প্রথম নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ মুরসি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

কিন্তু এক বছর পরই মোহাম্মদ মুরসির বিপক্ষে এক পাল্টা বিক্ষোভ করা হয়। বিক্ষোভের জেরে মিসরীয় সামরিক বাহিনী ২০১৩ সালের জুলাইয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে তার সমর্থকরা দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজধানী কায়রোর রাবা আল-আদাবিয়া স্কয়ারে অবস্থান নিয়ে মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতা পুনর্বহালের দাবিতে একটানা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন তারা।

ওই বছরের ১৪ আগস্ট রাবা আল-আদাবিয়ার প্রতিবাদকারীদের দমনে অভিযান চালায় মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এক দিনের ওই অভিযানে আট শ’র বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হন।

তখন থেকে মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সকল বিরোধীদলীয় নেতাদের ওপর দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই সময় মুসলিম ব্রাদারহুড ও সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে মিসরীয় প্রশাসন।

কারারুদ্ধ অবস্থায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ২০১৯ সালের ১৭ জুন কায়রোর এক আদালতে শুনানি চলাকালে মৃত্যুবরণ করেন।