প্রবাল ডেস্ক : মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমরা কী করেন তা দেখতে উন্মুখ ছিলেন ভক্ত-সমর্থকরা। মুশফিক ভক্তরা প্রিয় তারকার ব্যাট থেকে একটি বড়সড় ইনিংসের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু শনিবার সকালেই সে আশা কর্পূরের মত উবে গেছে।

করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে সবার আগে একা একা অনুশীলন শুরু করা এবং একাগ্রচিত্তে অনুশীলনে মগ্ন থাকা দেশসেরা ব্যাটিং প্রতিভা মুশফিকুর রহীম সুবিধা করতে পারেননি। শনিবার সকালে উইকেটে এসে চটজলদি ফিরে গেছেন ১৩ বলে ৩ রান করে। পেসার ইবাদত হোসেনের বলে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন তিনি।

তবে দুর্দান্ত খেলেছেন জাতীয় দলের বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। দেশের নির্জীব উইকেটে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মুমিনুল বরাবরই অন্যতম সেরা ও কার্যকর ব্যাটসম্যান। পরিসংখ্যান সে সাক্ষীই দিচ্ছে। আজও সে সত্যই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হলো।

মনেই হয়নি ছয়-সাত মাস খেলার বাইরে ছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পর ম্যাচ খেলতে নেমে যতটা স্বচ্ছন্দে ও আস্থার সঙ্গে খেলা সম্ভব, মুমিনুল ঠিক তাই খেলেছেন। প্রতিপক্ষ ওটিস গিবসন একাদশের বোলাররা বিশেষ করে পেসার ইবাদত, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান আর অফস্পিনার নাইম হাসান তার ওপর এতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।

তাদের বিপক্ষে সমান সাবলীল মুমিনুল একবারের জন্য আউট হওয়ার সুযোগ না দিয়ে খেলে ফেলেছেন ২২০ বলে ১৪ চার ও ১ ছয়ের মারে ১১৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। শুধু প্রতিপক্ষ বোলারদের বোলিংয়ের কথা বলা কেন, বৃষ্টির বাঁধাও মুমিনুলকে দীর্ঘ ইনিংস খেলা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

একবার দুবার নয়, সারাদিনে অন্তত তিনবার বৃষ্টি হানা দিয়েছে ম্যাচে। আবার খানিক বিরতি দিয়ে শুরু হয়েছে। কিন্তু মুমিনুলের মনোযোগ মনোঃসংযোগে চির ধরেনি একটুও। শেষপর্যন্ত তাকে আউট করতে পারেননি প্রতিপক্ষ বোলারদের কেউ। ১১৭ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে চলে যান রায়ান কুক একাদশ ক্যাপ্টেন।

মাঠে নেমে ঠান্ডা মাথায় প্রতিটি বল দেখে বলের মেধা ও গুণ বিচার করে খেলে সেঞ্চুরি হাঁকালেও, ম্যাচ শুরুর আগে রীতিমত চিন্তায় ছিলেন টেস্ট অধিনায়ক। খেলা শেষে মুমিনুল নিজ মুখেই তা স্বীকার করেছেন, ‘খেলা শুরুর হওয়ার আগে কিছুটা টেনশনে ছিলাম। মানুষ হিসেবে টেনশন থাকাটাই স্বাভাবিক। শেষ সাত মাস ধরে আমরা খেলিনি। শুধু অনুশীলন করেছি। প্রথমে একটু নার্ভাস ছিলাম।’

টেস্ট ক্যাপ্টেনের অনুভব, ‘এই প্রস্তুতি ম্যাচটি সবার জন্যই কমবেশি ভাল হয়েছে। শেষদিন আমাদের অনেক ভালো প্র্যাকটিস হয়েছে মনে হয়। বিশেষ করে পেসারদের। আমাদের যারা ব্যাটসম্যান আছে তাদেরও যারা রান করেছে তাদের জন্য। দুইদিনের খেলা আমি খুব ইনজয় করেছি। পেসাররা খুব ভালো বোলিং করেছে।’

মুমিনুল জানিয়ে দিলেন, প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও, সবাই মাঠে খুব সিরিয়াস ছিল। তার ভাষায়, ‘যখন আমরা টেস্ট ম্যাচ শুরু করব, আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে। কখন আবার টেস্ট হয় জানি না। তবে চেষ্টা করছিলাম টেস্ট ম্যাচে যেরকম পরিবেশ থাকে, যেরকম সিচুয়েশন থাকে- ঐভাবে শুরু করতে। চিন্তা ছিল রান করার চেয়ে বেশি সময় উইকেটে থাকার।’

তিনি শেষ করেন এভাবে, ‘অনেকদিন খেলার ভেতরে ছিলাম না। এটা এডজাস্ট করার জন্যই আমরা এভাবে ব্যাটিং করেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে এডজাস্ট করা, ওয়েদারের সঙ্গে এডজাস্ট করাই ছিল লক্ষ্য।’