দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় একমাস পর প্রকাশ পেলো তার অটোপসি রিপোর্ট। যে রিপোর্ট দিয়ে জানা গেলো, মৃত্যুর সময় তার শরীরে কোনো মাদক কিংবা অস্বাভাবিক কোনো ড্রাগের উপস্থিতি ছিল না।

গত ২৫ নভেম্বর, ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি ফুটবলার। এরআগে নভেম্বরের শুরুতেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে জমাট বাধা রক্ত অপসারণ করা হয় ম্যারাডোনার। ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। এর ২ সপ্তাহের মাথায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রাথমিকভাবে অটোপসি রিপোর্টে দেখা যায় ম্যারাডোনা ঘুমের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলেও মূলতঃ অ্যাকিউট পুলমোনারি অ্যাডেমায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, অর্থ্যাৎ ফুসফুস তীব্রভাবে ফুলে উঠেছিল। ফুসফুসে তরলের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। এটা হয়েছিল মূলতঃ তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার কারণে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুপর পর এবার প্রকাশ হলো ফাইনালি তার টক্সিকোলোজি রিপোর্ট। যেটাতে দেখা যাচ্ছে, ম্যারাডোনার শরীরে কোনো অ্যালকোহল কিংবা অবৈধ কোনো ধরনের ড্রাগের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে একটা ঔষধের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সাইকোট্রফিক ড্রাগ। যেটা বিষন্নতা এবং হতাশা থেকে মুক্তির জন্য দেয়া হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। অর্থ্যাৎ মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের ফলে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বাঁচানোর জন্যই এই ঔষধ দেয়া হতো।

ম্যারাডোনার টক্সিকোলজি রিপোর্টে আরো দেখা যাচ্ছে, হার্ট এবং ফুসফুসই নয় শুধু, তার কিডনি এবং লিভারও পুরোপুরি অকেযো হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর পর তার হার্টের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছিল, রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে- সেটা ওজনে নরমাল হার্টের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।