সত্যের সপক্ষে কথা বলতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো প্রযুক্তিনির্ভর ও গণমানুষের প্লাটফর্ম জাগরণ টিভি। রবিবার (১৩ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরস্থ পদ্মা লাইফ ইন্সুরেন্স ভবনে এই ডিজিটাল প্লাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কেক কেটে এই ডিজিটাল প্লাটফর্মের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিতি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকেই দেশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি মহল, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বহুবার। জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই এই বিষয়গুলোকে নিরপেক্ষতার আদলে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

হানিফ আরও বলেন, সব কিছুর উপরে রাজনীতি। জাতির সৃষ্টি থেকে শুরু করে দেশের সৃষ্টি সব কিছুর মূলেই রয়েছে রাজনীতি ও আন্দোলন। সেই আন্দোলনে দূরদর্শীতা থাকলে অনেক কিছুই সৃষ্টি হতে পারে, আবার সেটা না থাকলে অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সেই লিডারশিপের কারণেই আজকের বাংলাদেশ, আজকে আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।

জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশীপের কারণেই আজকে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অন্যতম দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজ দেশের ১২ কোটি মানুষ, ২৫ কোটি বাংলা ভাষাভাষী এবং বিশ্বে ৪০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেটনির্ভর। আজকে এই ডিজিটাল টিভি চ্যানেল জাগরণ আইপি টেলিভিশন ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ দেখতে পারবে। বাংলাদেশে এর দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছে শুধু প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কল্যাণে।

তিনি আরও বলেন, জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার জন্য বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার, ১৫ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সবই সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তার সুযোগ্য উত্তরসূরি ও প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস বলেন, তথাকথিত বামপন্থী ও লোক দেখানো প্রগতিশীল যারা আজকে নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ বলেন, আজকে অনেক পত্রিকা দেখি যারা সকলকে এক করতে চায় তাদের আমি বলে দিতে চাই, আমরা নিরপেক্ষ নই, বরং আমরা বাংলাদেশের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে। বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। সেই কাজটাই জাগরণ টিভি ও বিবার্তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস বলেন, আজকে যারা নিরপেক্ষতার কথা বলে তারা কারা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করে না, যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বীকার করে না আজকে তারাই নিরপেক্ষতার বুলি আওরায়।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, সামরিক শাসক মইনুদ্দিন ফকরুদ্দিন অন্যায়ভাবে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেছিল, বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা তাকে আন্দোলন করে মুক্ত করেছিল। আজকে যদি তিনি মুক্ত না হতেন,  যদি তিনি বাংলাদেশের হাল না ধরতেন তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি হতো তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

গৌরব একাত্তরের সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজক ও সঞ্চালক এফএম শাহীনের প্রশংসা করে বলেন, যেকোনো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার থাকে। তার ডাকে সারা দিয়ে আমরাও সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসি। আমি বিশ্বাস করি জাগরণ টেলিভিশনও সবসময় অন্যায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আমরা চাইবো জাগরণ টিভি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। জাগরণ টিভি নিরপেক্ষ ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলবে, বৃহত্তর মানুষের পক্ষে কথা বলবে। গণমানুষের পাশে থাকবে। সেই সাথে বৃহত্তর জনগোষ্ঠিতে প্রভাব বিস্তার করবে এই প্রত্যাশা কামনা করি।

সাবেক সাংসদ সানজিদা খানম জাগরণ টিভির শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তথ্য প্রযুক্তিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় টিভি হিসেবে পরিচিতি হবে গণজাগরণ টিভি। অপশক্তি ও দেশ বিরোধী শক্তির বিপক্ষে জাগরণ টিভি সোচ্চার থাকবে এই কামনা করি।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর জাগরণ টিভি ও বিবার্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার অবাধ স্বাধীনতার কারণে দেশে মিডিয়া বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকে আরও সহজতর ও দ্রুত গণমানুষের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আজ গ্রাম পর্যায়ে সরিয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস এই জাগরণ টেলিভিশন আগামীতে কোনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করবে না। সত্য প্রকাশে থাকবে নির্ভিক। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি জাগরণ টিভির শুভ কামনা করে বলেন, তাদের এই যাত্রায় আমরা সবাই পাশে থাকবো। তারা যেন এই যাত্রা সুন্দরভাবে পারি দিতে পারে।

জিটিভি প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা বলেন, আমি গণজাগরণ টিভির সর্বোন্নোতি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি। প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন টিভির জনপ্রিয়তা দিন দনি বাড়ছে।

বিবার্তা২৪.নেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসির সভাপতিত্বে ও জাগরণ টিভির প্রধান সম্পাদক এফ এম শাহীনের আয়োজন ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ সামাদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমরান কবির চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোল্লা নজরুল ইসলাম, ডিআইজি, নৌ পুলিশ, ইলিয়াস শরীফ, ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল করিম ডিআইজি, প্রণব সাহা, সম্পাদক, ডিভিসি নিউজ বাংলা, ইলিয়াস শরীফ, যুগ্ম কমিশনার এন্টি টেরোরিজম ইউনিট, আঙ্গুর নাহার মন্টি, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক,  নিউজ২৪টিভি, নাসির উদ্দিন মিতুল, ডিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুহুলি কুদ্দুস মুক্তি, সহ-সভাপতি, যুবলীগ, মাজেদুল বারি নয়ন, মেয়র, বড়াইগ্রাম পৌরসভা, গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট, মেয়র রায়পুর পৌরসভা, মাজেদ মিন্টু, উপসচিব, দুদক, এস এম মনিরুল ইসলাম মনি, সভাপতি গৌরব ৭১, গুলশাহানা ঊর্মি, জসীমউদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।