মিয়ানমারের রাখাইন জনপদ। যেখানে বেশির ভাগ বসবাসকারী মুসলমান। কিন্তু সেখানকার লাখো বাসিন্দা সব সময় মৃত্যুভয়ে কুঁকড়ে থাকেন। মিয়ানমারের সেনারা নানা অজুহাতে সেখানে নির্বিচার গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করে।

বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো সেখানেও হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস।

কিন্তু এ ভাইরাসের চেয়ে সেখানকার জনসাধারণ বেশি ভীত সেনাবাহিনীকে নিয়ে। অনলাইন আলজাজিরায় এক প্রতিবেদনে এমনটাই ফুটে উঠেছে।

রাখাইন রাজ্যের থার হ্লা (৩২) নামে একজন বলেছেন ৩ সেপ্টেম্বর রাতের কথা। তিনি বলেছেন, ওই রাতে তিনি প্রায় ৭০ জন মানুষের সঙ্গে একটি পাকা মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিলেন। তার ঘুম আসছিল না। এর কারণ, ওই গাদাগাদি করে অবস্থান করা নয়।

থার হ্লা বলেন, আকিস্মকভাবে গুলির শব্দ পেলাম। মনে হলো এই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারটা নিরাপদ নয়। মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের কাউকতায় নিজের বাড়ি থেকে

টেলিফোনে তিনি আলজাজিরাকে বলছিলেন, ওই গুলির শব্দে সে রাতে কেউ ঘুমাতে পারেনি। পরের সকালে করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট আনতে গেল কিছু মানুষ। তারা গেল তো গেলই।

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সবাই যার যার বাড়ি চলে গেল। ভয়ে তারা ওই আইসোলেশন (পৃথক্করণ কেন্দ্র) সেন্টার ত্যাগ করে। ইউ ইয়েত থি ন যে দুটি গ্রাম আক্রমণ করা হয়েছিল তার একটি।

সেখানকার বাসিন্দা আলজাজিরাকে বলেছিল, তাদের গ্রামের প্রায় সবাই পৃথক্করণ কেন্দ্র থেকে ৩ মাইলেরও কম। কিন্তু ‘তাতমাদো [মিয়ানমারের সেনাবাহিনী] আমাদের গ্রামের আশপাশে নির্বিচার গুলি চালিয়েছিল

তার পরে তারা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং আমরা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে যাই। আমাদের জীবন বাঁচাতে কোথায় যেতে হবে তা আমরা জানতাম না। ’ স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি গ্রামের ১১৬ বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। আর গুলি করে হত্যা করা হয় দুজনকে।

রাখাইনভিত্তিক একটি মিডিয়া সংস্থা ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া গ্রুপের মতে প্রায় ৮ হাজার গ্রামবাসী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারও এর মোকাবিলা করছে।

কিন্তু এ মহামারীকালে রাখাইনের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শুধু এ মহামারীই মোকাবিলা করছে এমন নয়। তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে সেনাবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে জাতিগত বহু সশস্ত্র গ্রুপ আছে। তার মধ্যে অন্যতম রাখাইনের আরাকান আর্মি। তারা রাখাইনে অধিকতর স্বাধীনতা চায়।

তারা বেশির ভাগ সমর্থন পায় জাতিগত রাখাইনদের পক্ষ থেকে। আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াই শুরু হয় ২০১৮ সালের শেষের দিকে।