চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কাদায় আটকে পড়ার পর অসুস্থ হওয়া হতিটিকে ১৬ দিন চিকিৎসা দেয়ার পরও বাঁচানো গেলোনা।

শনিবার (২৮ মে) কক্সবাজারের চকরিয়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাতিটি। তারপর ময়নাতদন্তের পর সেটিকে হাতির গোদা এলাকায় পূঁতে ফেলা হয়।

সাফারি পার্কের তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালায় কাদায় আটকে আহত মাদি হাতিটিকে ১৩ মে বিকেলে ট্রাকে করে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল।

আনার পর একটু আধটু খাবার খেলেও  ধীরে ধীরে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয় হাতিটি। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করেও তাকে আর কিছুই খাওয়ানো যায়নি। শেষে বুনো হাতিটি মারা যায়।

তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে বুনো মাদি হাতিটি রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে কাদায় আটকে পড়েছিল। খবর পেয়ে অনেক চেষ্টার পর হাতিটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মীরা বনাঞ্চলে ফেরত পাঠায়।

কিন্তু শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং মুখ দিয়ে পেটের ভেতর কাদামাটি ঢোকায় হাতিটি অস্থিরতায় ভুগছিল। একদিন পর হাতিটি ওই একই এলাকায় আবারো চলে এলে সেটিকে চিকিৎসার জন্য কোদালা বন বিটের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

সেখানে সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। এতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাতিটিকে পাঠানো হয় সাফারি পার্কে। এখানে আনার পর নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু কোন উন্নতি হচ্ছিল না। অবশেষে হাতিটি শনিবার সকালের দিকে মারা যায়।

মো. মাজহারুল ইসলাম আরও জানান, অসুস্থ হাতির চিকিৎসার জন্য ২২ মে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। পরদিন থেকে হাতির চিকিৎসা শুরু হয়।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক বিবেক চন্দ্র সূত্রধর। সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক ভজন চন্দ্র দাস, ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (অব.) মো. ফরহাদ হোসেন, চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী। সদস্যসচিব ছিলেন পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাদ মো. জুলকার নাইন।

পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক জুলকার নাইন জানান, সাফারি পার্কে আনার সময়ই বুনো হাতিটি অনেকটা চলনশক্তিহীন অবস্থায় ছিল। বয়স অনুপাতে হাতিটির যে পরিমাণ খাবার গ্রহণের কথা ছিল তার সামান্যই গ্রহণ করত। অনেক সময় মুখ থেকে খাবার ফেলে দিত। এ ছাড়া অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বন্ধ ছিল হাতিটির পায়খানা-প্রস্রাবও।

হাতিটি যে বাঁচবে না, তা চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর দিনই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল উল্লেখ করে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী জানান, হাতিটির পেটের ভেতর কাদা ঢুকে গিয়েছিল। এই কারণে হাতিটি খাওয়া ছেড়ে দেওয়ায় দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাই-কিন্তু তাকে বাঁচানো গেল না।

পার্কের ইনচার্জ মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ প্রায় ১০ বছর বয়সী বুনো হাতিটিকে দৈনিক দুই হাজার টাকার স্যালাইন ও ওষুধ খাওয়ানো হতো। আশা ছিল হাতিটি সুস্থ হয়ে বনে ফিরতে পারবে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে মরা হাতিটির ময়নাতদন্ত শুরু করে সন্ধায় শেষ হয়। এরপরই তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।  এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।