সন্ধ্যা নামতেই তরুণ তরুণী, যুবা আর বৃদ্ধের হাতে হাতে নানা রঙের ফানুস। ক্ষণ পরেই রামুর অন্ধকার গগণে ছেড়ে দেয়া হয় সেই জলন্ত বাতি। তখন আঁধার ভেদ করে দূর আকাশে শুরু হয় আলোর প্রজ্জলন।
তার একটু পর  আতশ বাজিতে আকাশ সেজে উঠে বাহারী রঙে।
বৌদ্ধদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় রামুর মন্দিরগুলো  হয়ে উঠে মিলন মেলায়।
উৎসবকে ঘিরে প্রদীপ পূজা,  বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শীল গ্রহণ, মহাসংঘদান, আলোচনা সভা চলে দিনভর।
ভক্তরা বলেছেন, এই উৎসব মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দুর করার মুলমন্ত্র।
আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভের পর আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত তিনমাস বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা উৎসব পালন করা হয়। সেই থেকে বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা বর্ষাবাস শেষে দিবসটি পালন করে আসছেন বৌদ্ধরা।
শাস্ত্রানুসারে প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান।
সব কিছু মিলিয়ে কক্সবাজারে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় বৌদ্ধদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজার বড় ক্যাং, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার, মৈত্রী বিহার,হাজারীকুল বোধিরত্ন বৌদ্ধ বিহার, সাদাচিং ও লালচিংসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা কর্মসূচির পালন করা হয়।