কক্সবাজারের উখিয়ায় মিয়ানমারের আরাকান থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) সৈয়দ রেজোয়ান হায়াত এ টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রতিদিন সাত হাজার রোহিঙ্গাকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে এবং মোট ৫৮টি টিকা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

টিকাদান উপলক্ষে আজ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এক্সটেনশন-৪ এ এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এ সময় আরআরআরসি সৈয়দ রেজোয়ান হায়াত বলেন, ‘আজ থেকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলো। উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে বয়সোপযোগী সকল রোহিঙ্গাদের পর্যায়ক্রমে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। আপাতত প্রথম পর্যায়ে ৫৫ বছর ও এর চেয়ে বেশি বয়সী ৪৮ হাজার ৬০০ জনকে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।’

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা টিটু চন্দ্র শীল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টেকনাফের সাতটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সাত দিন টিকাদান কার্যক্রম চলবে। সাতটি ক্যাম্পের মোট সাত হাজার ৯০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে নারী তিন হাজার ৬০১ জন এবং পুরুষ চার হাজার ২৯৯ জন।’

টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে বসবাসরত রোহিঙ্গা সুলতান আহমদ, শফিক আহমেদ, সুম মোহাম্মদ, জবর মুল্লুক ও আবুল ফরাজ আজ প্রথম দিনে সিনোফার্মের প্রথম ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন। টিকা নিতে পেরে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেখা গেছে উচ্ছ্বাসের আমেজ।