মানবিক সহায়তায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য নানারূপ হুমকির কারণ হয়ে উঠার সুযোগ রয়েছে। হুমকি সৃষ্টির মতো অসংখ্য পরিস্থিতি বা কারণ উপস্থিতি আমাদের হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ১৪-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক নাইমুল হক।

তিনি বলেন, প্রতি বছর বছর তাদের সন্তান জন্ম হচ্ছে। সেই অনুপাতে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভাসানচরে স্থানান্তরসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। তাছাড়া অস্ত্র ও ইয়াবাসহ রোহিঙ্গারা নানান অপরাধে জড়াচ্ছে। মনে রাখতে হবে রোহিঙ্গারা আমাদের মেহমান। তারা সুন্দরভাবে থাকবে। কোনোপ্রকার অনৈতকতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। একদিন তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।

গত এক বছরের কর্মকাণ্ড নিয়ে উখিয়া সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ১৪-এপিবিএনের অধিনায়ক এসব কথা বলেন।

মিয়ানমারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি বা কথিত আরসার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ১৪-এপিবিএনের অধিনায়ক নাইমুল হক বলেন, আরসা বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেই। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী আজিজুল হকসহ ১২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

২০২১ সালের ২২ অক্টোবর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৮-এর দারুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদরাসার সিক্স মার্ডারের ঘটনায় জড়িত আরাফাত উল্লাহকে ১৪-এপিবিএন পুলিশ ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর গ্রেফতার করেন। উক্ত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৬ জানুয়ারি ১৪-এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক নাইমুল হকের নেতৃত্বে ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে কথিত আরসার শীর্ষ কমান্ডার আতাউল্লাহর সৎ ভাই শাহ আলীকে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাইমুল হক বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু লোক নানা অপরাধ করে পার পেতে হয়তো আরসার নাম ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে এপিবিএনের কঠোরতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে আর কোনো দল বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে না। তবে রোহিঙ্গারা সুন্দরভাবে চলাফেরা করবে। তারা আমাদের মেহমান।

এসময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে ১৪-এপিবিএন।

অধিনায়ক আরো বলেন, ক্যাম্পে পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে এবং আরো দুটি নির্মাণাধীন। গত এক বছরে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৫ পিস ইয়াবা ৪০ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৪৪৭ ক্যান বিয়ার, ৫ বোতল দেশী মদ, ৮৫০ মি.লি. বিদেশী মদ, ৩টি স্বর্ণের বারসহ ৮০৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ১টি বিদেশী পিস্তল ও ১৪টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও ২০০টি বিভিন্ন প্রকারের দেশীয় অস্ত্রসহ ৮৬৮ জন আসামি গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে কথিত আরসা সদস্য রয়েছে ২২০ জন।

৪২,৯৮৭ কেজি চাল, ৩৩১২ লিটার তেল, ৭৯ কেজি ডাল, ৭০৪ কেজি চিনি, ৩৪৫০ কেজি সুজি, ১২ কেজি মরিচ, ৪০০ পিস সাবান, ৪৭৫০০ পিস সিনামিন ট্যাবলেট, ৪ বস্তা ওষুধ, ১৫ বস্তা সুজিসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করে সিআইসির কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি।

অধিনায়ক বলেন, এসময় মুহিবুল্লাহ ও ১৮ নং ক্যাম্পে মাদরাসায় ছয়জন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ তালিকাভুক্ত ৪৬০ জনকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন পুলিশ। এতে অপরাধ হ্রাস পেয়ে রোহিঙ্গারা স্বস্তিতে থাকতে পারছে, আর আইন শৃংখলা পরিস্থিতিরও ক্রমোন্নতি ঘটছে বলে তিনি জানান।

মতবিনিময় সভায় প্রত্যেক ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শকরা এবং উখিয়া প্রেস ক্লাব, অনলাইন প্রেস ক্লাব ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।