রোহিঙ্গার কারণে উখিয়া ও টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে সহায়তা করবে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তামূলক কর্মসূচির উদ্ভোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনলাইনে অনুষ্টিত এক সভায় এ কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলার ৩৫ হাজার ৮৮৭টিরও বেশি পরিবারকে কভিড-১৯ কার্যক্রমের আওতায় মাসিক অথবা এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয় যে, এই কার্যক্রমের আওতায় ১৬ হাজার ৮৮৭টি পরিবার বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে বাংলাদেশ ডাকঘর থেকে সহায়তা গ্রহণ করছে।

২০২০ সালের শুরুর দিকে আর্থ সামাজিক সূচকের সমন্বয়ে পরিচালিত চাহিদা নিরূপণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আরো ১৯ হাজারটি পরিবার ‘মোবাইল মানি’র মাধ্যমে জরুরি নগদ অর্থ সহায়তার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যে ৫ হাজার ৬০০টিরও বেশী পরিবার তাদের প্রথম দফার অর্থ গ্রহণ করেছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন অনলাইন উদ্ভোধনী অনুষ্টানে বলেন, আমি আশা করি স্থানীয় জনগোষ্ঠির মধ্যে যারা সত্যিকার অর্থেই অসহায় তাদের কাছেই এ সাহায্য পৌঁছে যাবে। কক্সবাজারে আরো অনেক অসহায় মানুষ যারা আছেন তাদের সবাইকেই সাহায্য করা সম্ভব যদি কিনা আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করি। তিনি স্থানীয় জনগোষ্ঠিসহ দেশত্যাগি রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউএনএইচসিআর এবং এর অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্টানে ইউএনএইচসিআর এর কক্সবাজারস্থ হেড অব অপারেশন মারিন ডিন কাজদোমকাজ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরনার্থী ক্যাম্প হিসাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতা ও সহানুভুতিশীলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের মহাসচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, ইউএনএইচসিআর এর লিঁয়াজো অফিসার ইকতিয়ার উদ্দিন বায়েজীদ ও লাইভলীহোড অফিসার সুব্রত কুমার প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।