মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো জাতিগত সহিংসতাকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যদিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সহিংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিলো।

সোমবার (২১ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘প্রমাণ পেয়েছে’ ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ব্লিঙ্কেন। এ বিষয়ে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, হলোকাস্ট ছাড়াও বিশ্বে সাতটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার অষ্টম গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত যে বার্মিজ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে এটা সুস্পষ্ট যে এই গণ নিপীড়নের উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করা।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়া সফরের সময় ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের জান্তা সরকারের আচরণ গণহত্যা কি-না, তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের দক্ষিণপশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ ওই ঘটনায় মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার প্রস্তাব করে জাতিসংঘ৷