কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে প্রতিবছর যোগ হচ্ছে ৩৫ হাজার শিশু। উদ্বেগজনক হারে তাদের মধ্যে সন্তান জন্মদান বেড়ে যাওয়ায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের পরিবারে জন্ম নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

রবিবার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে এক সভায় রোহিঙ্গা শিশুদের জন্মহারের তথ্য দিয়ে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, ‘বড় আকারে রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ বছর হয়েছে। আর এই পাঁচ বছরে তাদের প্রায় দেড় লাখ শিশুর সংখ্যা বেড়েছে।’

শরণার্থী শিবিরে শিশু থেকে বয়ষ্ক মাথাপিছু সবাইকে একই পরিমাণের রেশন দেওয়া হয়। রেশনের জন্যও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা রয়েছে বলে ধারণার চল রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন একজন রোহিঙ্গা শিশু যে হারে রেশন পেত একজন বয়স্ক রোহিঙ্গাও একই রেশন পেত। তাই এখন থেকে বয়স বিবেচনা করে রেশন দেওয়ার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন অবৈধভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট করতে না পারে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে তল্লাশি চৌকিতে কথিত হামলার ধুয়ো তুলে সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা-ধর্ষণ চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।

প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশি বাংলাদেশের দিকে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আগে থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে শরণার্থী সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১১ লাখের বেশি।

বিপুল এই শরণার্থীদের তাদের নিজভূমে ফেরাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একের পর এক উদ্যোগ নেওয়া হলে নানা ছল চাতুরিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্ব করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে চুক্তি হলেও কার্যত সেটি থমকে আছে।