রাস্তায় নেই শুধু গণপরিবহন, আর বিপণী বিতান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার রাজধানীর কোনো রাস্তা দেখলে বোঝার উপায় নেই যে লকডাউনের বিধিনিষেধ এখনও আছে।

ঈদের পর ২৩ জুলাই শুরু হওয়া কঠোর লকডাউন মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে, বুধবার সব ধরনের অফিস-বিপণি বিতান খুলে যাবে, গণপরিবহনও নামবে রাস্তায়।

কিন্তু তার আগে লকডাউনের শেষ দিন প্রায় সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী গাড়ি, সরকারি যানবাহন আর রিকশা-ভ্যানে রাজধানী যে চেহারা পেয়েছে, তা দেখে এক নাগরিকের ভাষ্য: “গাড়িরা সব যেন জেগে উঠেছে।”

রাস্তায় গাড়ির জট বাড়ার পাশাপাশি ফুটপাতে মানুষের চলাচলও বেড়েছে। তবে সবার মুখে মাস্ক দেখা যাচ্ছে না। অনেক রেস্তরাঁয় বসে খেতেও দেখা গেছে অনেককে। লকডাউনের মধ্যে সে অনুমতি এখনও নেই।

কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল ছিল আগের চেয়ে বেশি। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি”

কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল ছিল আগের চেয়ে বেশি। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

খোলা রয়েছে লন্ড্রি, সেলুনসহ প্রায় সব ধরনের দোকানপাট। জমজমাট অবস্থা পাড়ামহল্লায়। চলমান লকডাউনের উনবিংশতিতম দিনে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেল।

মিটফোর্ড, পাটুয়াটুলীর মার্কেটগুলো বন্ধ থাকলেও অনেক মার্কেটের অর্ধেক কলাপসিবল গেইট খোলা রেখে চলছে বেচা-বিক্রি।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, গ্রিনরোড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসছে জনজীবন। সড়কে চলছে রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি। মানুষের চলাচলও অন্যান্য দিনের তুলনায় বেড়েছে।

গ্রিনরোড এলাকায় একটি হাসপাতালে আসা গাড়ি চালক মোশাররফ হোসেন বলেন, “কাল থেকে লকডাউন উঠে গেলে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এজন্য আজ থেকেই সবাই যার যার মতো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।”

করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে দেশ চলমান কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও-তেজগাঁও লিংক রোডে ব্যক্তিগত বাহনের জট। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি”

করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে দেশ চলমান কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও-তেজগাঁও লিংক রোডে ব্যক্তিগত বাহনের জট। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

শাহজাহানপুর, রামপুরা, মৌচাক, মালিবাগ, কাকরাইল, ফকিরাপুল, বিজয়নগর, পল্টন, বেইলিরোড এলাকা ঘুরে দেখা গেল, লকডাউনের শেষ দিন সড়ক গাড়িতে ভরে গেছে। মোড়ে মোড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজটের।

রামপুরার বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, “আজকে সকালে রাস্তায় বেরিয়ে মনে হয়েছে ঢাকা অন্যরকম। লকডাউন বিদায় হয়ে গেছে। এতদিন যে লকডাউন লকডাউন মনে হয়েছিলম, সেটাও নেই। রাস্তায় শুধু গাড়ি আর গাড়ি, রিকশা আর রিকশা। ”

যানবাহনের চাপে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডগুলো রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

বনানী থেকে কাকরাইলে আসতে প্রাইভেটকার চালক রাশেদ আহমেদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, “বনানীর কাকলী, চেয়ারম্যান বাড়ি, মহাখালী, নাবিস্কো, সাতরাস্তা, বেইলি রোড়ের মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যাল আর যানজট পার হয়ে আমাকে আসতে হয়েছে। এতদিন ভালো লাগত গাড়ি চালিয়ে। গত কয়েকদিন যাবত রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আরাম পাচ্ছি না। সেই আগের অবস্থা। ”

শান্তিনগরের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা কানিজ ফাতেমা সকাল ১০টায় বেইলি রোড়ের সিদ্ধেশ্বরী কলেজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানালেন।

করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে দেশ চলমান কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও-তেজগাঁও লিংক রোডে ব্যক্তিগত বাহনের জট। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি”

করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে দেশ চলমান কঠোর লকডাউনের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও-তেজগাঁও লিংক রোডে ব্যক্তিগত বাহনের জট। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভি

“বেশি দূর তো নয়, শান্তিনগর থেকে বেইলি রোড। কিন্তু রাস্তায় যানবাহন দেখে ভয় পাওয়ার মত অবস্থা। যেন গাড়িরা সব জেগে উঠেছে।”

গণপরিবহন ছাড়াই ঢাকার রাস্তায় এত যানবাহন দেখে কাকরাইলের একটি হাসপাতালের কর্মচারী জয়নাল আবেদীন বলেন, “কোথা থেকে এত প্রাইভেট কার এল বুঝলাম না। রাস্তা আজকে তারাই দখল করে ফেলেছে। তাহলে কালকে বাস, হিউম্যান হলার নামলে কী হবে?”

মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেখেরটেক, রিংরোড এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাই বেশি। পাশাপাশি রিকশা। দোকানপাট সবই খোলা। পাড়া মহল্লার রেস্তরাঁগুলোতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শিয়া মসজিদ এলাকার আল আমিন রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মো. শিহাব উদ্দিন বললেন, “অনেকে বসে খেতে চায়। এ কয়দিন দিইনি। কাল থেকে লকডাউন উঠে যাচ্ছে। তাই আজ অল্প কিছু মানুষকে বসে খেতে দিচ্ছি।”