আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর চামড়া সংরক্ষণে লাগবে প্রচুর পরিমাণ অপরিশোধিত লবণ। যা আসে মূলত টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে। আর এসব লবণের চালানের সঙ্গে রাজধানীতে ঢুকছে ইয়াবাও। মূলত ঈদকে সামনে রেখে ইয়াবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একটি চক্র লবণের ট্রাকে ইয়াবা আনছে বলে গোয়েন্দাসূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় লবণের ট্রাক দ্রুত আসতে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। তল্লাশিও কম হয়। এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেতের কুড়াতলি এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের একটি টিম লবণ বোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করে। ট্রাকটিতে সাড়ে ১৩ টন লবণ পাওয়া গেলেও পরে ব্যাপক তল্লাশির পর গাড়ির বিভিন্ন পার্টস ও সিটের নিচে কায়দা করে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তা জব্দ করা হয়।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফের কয়েকটি পয়েন্ট থেকে লবণ ও ইয়াবা নিয়ে ট্রাকটি ঢাকায় নিয়ে আসেন মো. বাচ্চু মিয়া আর তার শ্যালক মো. সুলতান মাহমুদ। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানায় গোয়েন্দারা।

ডিবির হেফাজতে বাচ্চু মিয়া ও সুলতান মাহমুদশ্যালক-দুলাভাই মিলে দীর্ঘদিন ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে বলে জানিয়েছে ডিবি। তারা বগুড়ার শেরপুরের বিভিন্ন মিল থেকে ১৪-১৫ টন করে চাল নিয়ে যেতো কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থানার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ফেরার পথে ইয়াবা নিয়ে আসতো ঢাকা, গাজীপুর, রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়ায়।

মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান পৌঁছাতে এই ট্রাকের চালক-হেলপারকে ভাড়া করতো। একটি চালান সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারলে দুজনে পেতো প্রায় সাত লাখ টাকা।

উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘কোরবানির ঈদের সময় লবণ একটা দরকারি উপকরণ। এ বিবেচনায় হাইওয়ে পুলিশ, জেলা এবং মেট্রোর ট্রাফিক পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের ব্যবস্থা করে থাকে। এটা জেনেই ওরা এ চালান নিয়ে আসে লবণের আড়ালে।’

ডিবি জানিয়েছে, আটককৃতরা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে এর আগে তারা আরও তিনটি চালান এই কৌশলে এনেছিল।

দুজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।