টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ উপক‚লের জেলেদের জালে ধরা পড়েছে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার মাছ। এতে খুশির আমেজ বইছে শাহপরীর দ্বীপের জেলে পরিবারগুলোতে।

গতকাল শুক্রবার (১১ মার্চ ) দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্র সৈকতে কোনা পাড়া মোহাম্মদ আব্দুল আমিন প্রকাশ (কালু মাঝি) ও মাঝের পাড়ার দিল মোহাম্মদ এর মালিকানাধীন জালে এসব মাছ ধরা পড়ে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, শুক্রবার (১১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার সময় শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া সমুদ্র সৈকতে জেলেদের টানা জালে ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা ইত্যাদি ছোট প্রজাতির প্রচুর পরিমাণের মাছ আটকা পড়ছে। শাহ পরীর দ্বীপ কোনাপাড়া মোহাম্মদ আব্দুল আমিন প্রকাশ কালু মাঝির জালে ধরা পড়েছে চার লক্ষ ২০ হাজার টাকার ও মাঝের পাড়ার দিল মোহাম্মদ এর মালিকানাধীন জালে দুই লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মাছ ধরা পড়ে। সাগর থেকে জেলেরা মাছ তোলার সাথে সাথে এসব মাছ ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করছেন পাইকারী ক্রেতাদের কাছে। পাইকারী ক্রেতারা কিছু মাছ বাজারে তুললেও বাকীটুকু পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুটকি মহালে। এতে করে জালের মালিক ও জেলে সহ লাভবান হচ্ছেন মৎস সংশ্লিষ্ট উপক‚লবাসী।

শাহপরীরদ্বীপ কোনাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আমিন প্রকাশ (কালু মাঝি) জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় আজ হঠাৎ করে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। আমার এক জালে ধরা পড়া চার লক্ষ ২০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে হঠাৎ করে এই বছর টানা জালে প্রচুর পরিমানে মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন মাছ ধরা পড়ায় উপক‚লের জেলেরা খুব আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।

জালের মালিক দিল মোহাম্মদ জানান, আমার জালে আজ প্রচুর মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো বিক্রি করার জন্য তিন লক্ষ টাকা দাম দিয়ে ছিলাম। টেকনাফের মাছ ব্যবসায়ী সৈয়দ আলমকে দুই লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি মাছ গুলি। জেলেরা মাছ পেয়ে খুব খুশিতে আনন্দে দিন কাটাচ্ছে আজ।
টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশের প্রজনন বাড়াতে ২০১৯ সাল থেকে (৬৫ দিন) মাছ ধরা ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।

এছাড়া ২০১১ সাল থেকে অক্টোবর মাসেও সাগরে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হয় জেলেদের। মাছ ধরা বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও আকৃতি বেড়েছে অনেক গুণ। এর সুফল হিসেবে শাহপরীর দ্বীপ জেলেদের জালে ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, ছুরি, বাটা ইত্যাদি ছোট প্রজাতির প্রচুর পরিমাণের মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ বিক্রির টাকায় জেলেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, দূর হচ্ছে জেলেপল্লীর অভাব-অনটন।