করোনার থাবায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গেলো বছরের শেষে আবারও খুলতে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ওমিক্রনের বিস্তারিত নতুন বছরের শুরুতেই আবারও বন্ধ ঘোষণা।

এতে আবারও স্থবিরতা নেমে আসে শিক্ষাঙ্গণে। দুই সপ্তাহের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও, আগামী মাসে খুলবে কিনা, তার নিশ্চয়তা এই। সবই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।

তাই করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও, শিক্ষা কর্মসূচি চালু রাখতে অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ২৫ সপ্তাহে মোট ৫০টি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।

তবে এখনো শিক্ষার্থীরা সব ক্লাসের বই না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

এই কিছুদিন আগেই প্রতিদিন সকাল হতেই শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখর থাকতো স্কুল প্রাঙ্গণ। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্কুলে আসতো, ক্লাস করতো।

কিন্তু, দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আবারো হঠাৎ বন্ধ স্কুল। ক্লাস চলবে অনলাইনে। চলবে এ্যাসাইমেন্ট। এমন ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী।

কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাঁচদিনে এ্যাসাইনমেন্টের কি অবস্থা? নবম শ্রেণির বিভাগভিত্তিক সব বই যেখানে পৌঁছায়নি সেখানে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম কতটা গতি পাবে?

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অধ্যক্ষ জহুরা বেগম জানান, এখনও সব বই হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া যাচ্ছে না।

তিনি মনে করেন, ইন্টারনেট সমস্যা, ডিভাইস সংকট, শিক্ষকদের মনিটরিংয়ের অভাবসহ নানা কারণে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে খুব বেশি সফল হবার সুযোগ নেই।

অনলাইনে সব শিক্ষার্থীর পক্ষে ক্লাস করা সম্ভব নয়। সবার কাছে ইন্টারনেট নাও থাকতে পারে। আবার অনেক শিক্ষার্থীর পিসি বা ল্যাপটপও নেই।

অ্যাসাইনমেন্টের কাজটি করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির কাজ শেষ।

চলছে মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্যান্য শ্রেণির কাজও। সপ্তাহে দুইটি করে মোট ২৫ সপ্তাহের জন্য অ্যাসাইনমেন্টের কাজ চলছে। যা শিক্ষার্থীরা পাবে সারা বছর।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, বাকি থাকা বইগুলো দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে।

করোনা সংক্রমণের কারনে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গেলো ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারো স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর করোন সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখে আসবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।