করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান।<

ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর অনুমোদন দিয়েছে। এসব ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এক টুইটে মন্ত্রণালয় স্কুল খোলার বিষয়ে এই ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

অপরদিকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী শাফকাত মেহমুদ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বলে ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোমবার প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

এরপর এক দফা পর্যালোচনার পরে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস চালু করতে চান তারা।

সবার শেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা পাকিস্তানের। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেক করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

উভয় দেশই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় মাস্ক পরা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলাসহ সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের গাইডলাইন্স দিয়েছে।

আর পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস অনুসরণ করা না হলে ‘পদক্ষেপ গ্রহণে’ বাধ্য হবে সরকার।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বাংলাদেশের মতো ছয় মাস ধরে ভারত ও পাকিস্তানেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

পাকিস্তানে এ যাবৎ দুই লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৫ জনের। অপরদিকে ভারতে ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৪২২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ৭২ হাজার ৭৭৫ জন।