বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ও শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ রয়েছে গেল বছর ১৭ মার্চ হতে। সংক্রমণের হার বৃদ্ধি থাকায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়।

ফলে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসাসহ সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্টানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এখন স্কুল খোলার খবরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মাঝে খুশির আমেজ দেখা যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে স্কুল খোলার দিনে শিক্ষার্থী ছেলে মেয়েদের মাঝে আনন্দ আর উৎসবের বন্যা বয়ে যাবে।

তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, ১৭ মার্চ ২০২০ সাল হতে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসের অধিক সময় ধরে সকল শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার প্রচুর ক্ষতি হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের জীবনের মূল্যবান সময় হারিয়েছে সন্দেহাতীতভাবে অনেক বেশি।

এসময় স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে শিক্ষার্থীরা ফাবজি, ফ্রি ফায়ারে মতো মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন ছিল মা বাবারা। ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া আরাফাত রহমানের বাবা আবদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলের পড়া লেখা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম, এখন স্কুল খোলার খবর শুনে বেশ ভালো লাগছে।

দীর্ঘদিন পর হলেও ছেলে মেয়েরা স্কুলমুখী হবে এর চেয়ে ভালো খবর এ মুহূর্তে আর নাই। অভিভাবক হিসেবে আমরা সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের স্কুল খোলার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই ।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনিভাবে শিশুর মানসিক এবং সামাজিক বিকাশ ও বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, যা শিক্ষক হিসেবে আমাদের মোটেও কাম্য নই।

আমাদের স্কুল স্বাস্থ্য বিধি মেনে শতভাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে স্কুলে পাঠদানে শিশুরা নিরাপদ এবং সুস্থ্য থাকে। একইভাবে জানতে চাইলে বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং টেকনাফ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাষ্টার এরশাদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর স্কুল খুলবে এ জন্য আমরা যার পর নাই খুশি, এখন শিশুরা স্কুলে ফিরবে, প্রাণচাঞ্চল্য আর আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হবে ইনশাহ্ আল্লাহ্। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম যাতে ভাল ও নিরাপদে চলে আমরা তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্টান খোলার আগেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন সরকারসহ সচেতন মহল। স্কুল পড়ুয়া ছেলেমেয়েদর স্বাস্থ্য বিধি মেনে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের কথা বলেছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক মা এবং বাবারাও।