শীতের সময়ে ঠান্ডার রোগী থাকে প্রতিটি ঘরে। কারো হাঁচি, শুকনো কাশি হয়। কারো বা ঠান্ডায় গলা বসে যায়, বুকে কফ জমে, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যাও হয়। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে এগুলো বেড়ে যায়।

বুকে কফ জমে গেলে দীর্ঘদিন ভুগতে হয়। সঙ্গে কাশি থাকলে আরো দুর্বল করে দেয়। কেন কফ হয় এবং কোন রোগের লক্ষণ বহন করে এ বিষয়ে জানাব আজকের আয়োজনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির বছরে ৪ বার এবং একটি শিশুর বছরে ১০ বার সর্দি-জ্বর হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। অর্থাৎ পুরো জীবদ্দশায় ২০০ বারের বেশি সর্দি-জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক ঘটনা। এর কারণে বুকে কফ জমাও স্বাভাবিক। ভাইরাসজনিত কারণে ঠান্ডা লাগতে পারে। শীতের সময় এই ভাইরাসগুলো দ্রুত সংক্রমিত হয়। সে থেকেই বুকে কফ জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঠান্ডা লাগলে বা জ্বর হলে সংক্রমণকারী জীবাণু নাসারন্ধ্রের ভেতরে মিউকাস লাইনিং অতিক্রম করে প্রবেশ করে। এতে নাসারন্ধ্রের ভেতর অতিরিক্ত সর্দি বা কফ জমা হয়। ডাক্তারি শাস্ত্রে একে ‘রাইনোরেয়া’ বলে।

এ ছাড়া ধূমপান যারা নিয়মিত করেন, তাদেরও বুকে কফ জমে। এর ফলে কাশি হয়। অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও সৃষ্ট এই রোগকে স্মোকার্স কফ বলে।

কোন ধরনের কাশিতে কী ধরনের চিকিৎসা

শ্লেষ্মাজাতীয় কফ হলে তা অ্যালার্জি কিংবা ভাইরাসের কারণে হয়। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন নেই। নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করুন।

হলুদ রঙের ঘন কফ বেরোচ্ছে? তাহলে বুঝতে হবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে। চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিন। অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করুন।

বেশি কাশি হলে পরীক্ষা করুন। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে যক্ষ্মার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এ ছাড়া সন্ধ্যার দিকে জ্বর, ওজন কমতে থাকা এবং কখনো কাশির সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে কি না, খেয়াল রাখুন।

হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কাশির সঙ্গে হালকা কফ হয়। হাঁপানি রোগের সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করিয়ে নিন। সে অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস রোগ হয়। এ ক্ষেত্রে তিন মাস নিয়মিত কাশি ও কফ হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসা নিন।

ফুসফুসের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে পুঁজ জমা হতে পারে। কাশির সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত কফ হলে অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া প্রয়োজন।

কাশির সঙ্গে রক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বয়স্ক, ধূমপায়ী ব্যক্তির কাশির সঙ্গে রক্ত হওয়া ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ।

কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট কিংবা পায়ে পানি এলে বুঝবেন হৃৎপিণ্ডের সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।