আপেল, কমলা ও মাল্টার মতো অনেক ফল বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমদানি করা হলেও এবার বাংলাদেশ থেকেই কাঁঠাল, আম ও আনারস রপ্তানি হচ্ছে সুদূর যুক্তরাজ্যে। স্বল্প পরিমাণে সমুদ্র পথে দেশি ফল বিদেশে রপ্তানি শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ হতে পারে বিশ্বের অন্যতম ফল রপ্তানিকার দেশ। এ খাতকে এভাবেই দেখছেন দেশীয় হিমায়িত খাদ্যপণ্য রাপ্তানিকারকেরা। গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্র পথে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয় দেশে উৎপাদিত কাঁঠাল, আম ও আনারসের চালান। পূর্বে কাঁচা আম রপ্তানি হলেও এবার পাকা আম কেটে ছোট আকারের টুকরো করা হিমায়িত অবস্থায় পাঠানো হয়েছে। একইভাবে পাকা কাঁঠাল ও আনারস কেটে টুকরো করে প্যাকেটজাত অবস্থায় রপ্তানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ইছানগরের প্রতিষ্ঠান মাসুদ এগ্রো প্রসেসিং ফুড প্রডাক্টস সাড়ে ১৮ টন সব্জির সাথে প্রাথমিক অবস্থায় প্রসেস করা ৫২৮ কেজি দেশীয় ফল রপ্তানি করে। যুক্তরাজ্যের এমএফএস সি ফুড লিমিটেড বাংলাদেশ থেকে  এই ফল আমদানি করছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গার ইস্টার্ন লজিস্টিকস ডিপো থেকে একটি হিমায়িত কনটেইনারে ওই সাড়ে ১৮ টন সব্জির সাথে পাকা প্রসেস করা ফল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজীকরণের জন্য পাঠানো হয়। গত ৫ অক্টোবর মঙ্গলবার ওয়ান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেসের একটি জাহাজে করে ওই চালান ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট হয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

সমুদ্র পথে হিমায়িত কনটেইনারে পাঠানো এই চালান বিদেশি বায়ার পছন্দ করলে এবং এর মান অক্ষুণœ থাকলে নিয়মিত আরো বড় চালানের প্রসেসিং করা ফল বিদেশে রপ্তানির আশা করছেন মাসুদ এগ্রো প্রসেসিং ফুড প্রডাক্টসের কর্ণধার আশরাফ হোসাইন মাসুদ।

তিনি পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন ফলের মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ফল উৎপাদিত হয়। ভরা মৌসুমে ওইসব ফলের মূল্য তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তখন প্রায় সময় ওইসব ফল পচতেও দেখা যায়। কিন্তু এসব ফল মৌসুমের সময় সংগ্রহ করে ফ্রোজেন করা গেলে এবং বিদেশে রপ্তানি করা গেলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের পাকা ফল বিদেশে সুপরিচিত হোক এবং নিয়মিত চাহিদা তৈরি হোক। এতে দেশই লাভবান হবে বেশি।

মাসুদ এগ্রো প্রসেসিং ফুড প্রডাক্টসের সহকারী ব্যবস্থাপক এ বি এম শামসুল করিম পূর্বকোণকে বলেন, আমরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরণের সব্জি বিদেশে রপ্তানি করি। সাড়ে ১৮ টনে শিম, শিমের বিচি, কাঁচামরিচ, কড়লা, কাঁকরল ইত্যাদি সব্জি ছিল। সেই সাথে ৫২৮ কেজি দেশীয় ফল পাঠানো হলো। এগুলো কেটে প্রসেস করে ফ্রোজেন অবস্থায় বক্স করে পাঠানো হয়েছে।

সমুদ্র পথে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা কাঁঠাল, আম ও আনারস প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের রোগতত্ত্ববিদ সৈয়দ মুনিরুল হক পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের দেশ থেকে সমুদ্র পথে কাঁচা আম ও অন্যান্য ফল রপ্তানি হলেও এবার পাকা কাঁঠালের কোষ, টুকরো করে কাটা আম ও আনারস রপ্তানি হয়েছে। প্রসেসিং করে ফ্রোজেন অবস্থায় রপ্তানি করা ফলের আমরা স্যাম্পল টেস্ট করে দেখেছি। ফলগুলো পোকামুক্ত ও ভাল অবস্থায় ছিল। রপ্তানির আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করে ওইসব ফল যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।