রাশিয়ায় তৈরি ‘স্পুটনিক-ভি’ টিকার দুই কোটি ডোজ সরকারকে দিতে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, ‘সরকার চাইলে দুই কোটি টিকা এক সপ্তাহের মধ্যে দেব। রাশিয়ার এই টিকার দাম ৮ ডলার। অথচ সরকার চীন থেকে ১০ ডলারে টিকা কিনেছে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। এর আগে দুপুরে ভিপি নুর টুইটারে এক বার্তায় বলেন, চলমান লকডাউনে লাখ লাখ লোক না খেয়ে, আধা বেলা খেয়ে দিনাতিপাত করছে। রাষ্ট্র কি তার জনগণের খবর রাখছে?

একই সময় ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, এই লকডাউনে সরকার কয় লাখ বেকার শ্রমিক, হকার, দিনমজুর, বাস-টেম্পু-সিএনজিচালককে সহায়তা দিয়েছে? তাদের কাজ তো সরকার বন্ধ রেখেছে। তাদের পেটও কি বন্ধ রেখেছে?

ফেসবুক পেইজ ও টুইটারে পোস্ট দেয়ার বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন ভিপি নুর। একইসাথে তিনি বলেন, লকডাউন এখন হাস্যকর হয়ে গেছে। লকডাউনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভ্যাকসিনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। সরকার তা করেনি।

ভিপি নুর বলেন, লকডাউনে মানুষকে না খেয়ে আছে। আর ভ্যাকসিন না দিয়ে জনগণকে মারা হচ্ছে। যা গণহত্যার সামিল। এজন্য সরকারকে একদিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে ভিপি নুর আরো বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে রাশিয়ায় তৈরি ‘স্পুটনিক ভি’র দুই কোটি ভ্যাকসিন (করোনার টিকা) আছে। তিনি সরকারকে তা দিতে চেয়েছেন। সরকারকে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সরকার তার কাছ থেকে ভ্যাকসিন নিবে না। তিনি বলেন, রাশিয়ার এই টিকা আগেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নুরের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকার প্রতিডোজ যেখানে ৮ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে, তা না নিয়ে সরকার চীন থেকে ১০ ডলারে টিকা কিনছে। তাও সময় মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাচ্ছে না। এখানে সমস্যা হচ্ছে, সরকার মনে করছে, ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ভিন্ন ঘরানার বদ্ধিজীবী। তিনি টিকার মাধ্যমে ব্যবসা করে সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করতে পারেন। সরকার এখানেও রাজনীতি দেখছে।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার এই টিকা সরবরাহ করা হবে। তিনিই সরকারকে এই টিকা সরবরাহ করবেন বলেও জানান। ভিপি নুর বলেন, কিছুক্ষণ আগে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে আমার বৈঠক হয়েছে। সরকার চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ার দুই কোটি টিকা সরকারকে সরবাহ করা হবে।

সরকার করোনা নিয়ে রাজনীতি করছে বলেও মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। তার মতে, মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে সরকার ভাবছে না। সব কিছু নিয়ে তারা রাজনীতি করছে। কঠোর লকডাউনের নামে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন বাসচালক-টেম্পুচালকরা না খেয়ে আছে। জণগণের সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা আগেই মত দিয়েছিলেন যে ফেব্রুয়ারির পর করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে। দেখা গেল, এরপর মার্চে বিদেশীদের এনে দেশে অনুষ্ঠান করা হলো। এখন লকডাউন দেয়া হয়েছে। আবার আগস্টে দেখবেন তাদের অনুষ্ঠান ঠিকই করা হচ্ছে।

ভিপি নুরের মতে, এই লকডাউন মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নয়। এটি একধরনের রাজনীতি। সরকার নিজেদের সুবিধা মতো ব্যবহার করছে। মানুষের কথা ভাবলে টিকা নিশ্চিত করতে সরকার বেশি উদ্যোগী হতো। কিন্তু আমরা তা দেখছি না।