বারবার অনুরোধের পরেও সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথ শেষবারের মতো অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে এক নজর দেখার সুযোগ পাননি। নীলিমা রিসোর্ট থেকে ৩১ জুলাই সকালে মারিশবুনিয়া গ্রামের পাহাড়ে ছবি তুলতে যাওয়ার আগে শেষবার দেখা হয়।

পুলিশ সিনহা হত্যার পর নীলিমা রিসোর্টে চার ঘন্টা ধরে তল্লাশি চালানোর সময় একবারও জানতে দেয়নি ততক্ষণে সিনহা আর পৃথিবীতে নেই। এমন চলে যাওয়ায় যে প্রশ্নগুলোর জন্ম দিয়েছে তার উত্তর খুঁজতে বারবার নিলীমা রিসোর্টে ফিরে যান শিপ্রা। এবার তার সাথে ছিলেন এই প্রতিবেদক।

জীবিত সিনহা, জাস্ট গো ভিডিও দলের বাকি দুই সদস্য, কাজের উচ্ছাসের গল্প, তাজা স্মৃতি হলেও মৃত সিনহাকে নিয়ে শিপ্রার কোনো ছবি নেই।

৩১ জুলাই রাত সাড়ে ন’টার মধ্যে কাজ থেকে ফেরার কথা ছিলো সিনহা ও সিফাতের। ঘরের চুলায় ঈদের সেমাই, বিরিয়ানি ঠান্ড হবার আগেই শরীরের উত্তাপ হারিয়ে সিনহা তখন নিথর। যদিও শিপ্রার মনে তখন ঘুরছে,পুলিশি তল্লাশির ভাবগতি বদলে যাবে সিনহা এলেই।

তারপর ভোর রাতে হাজতে পাশাপাশি সিফাতের সাথে দেখা। যার চোখের সামনে ঘটেছিলো পুরো ঘটনা। গত এক বছর ধরে যে প্রশ্ন জানবার অপেক্ষা ছিল শিপ্রার কাছে, ঠিক কি ছবি তুলতে ঐ পাহাড়ে গিয়েছিলেন সিনহা? একমাস ধরে কি করছিলেন তারা কক্সবাজারে?

শিপ্রার আরেক জবাব, শুরু থেকেই পরিস্থিতি ছিল টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমারের নিয়ন্ত্রণে। সব মোবাইল ল্যাপটপ হার্ড ড্রাইভ ছিলো তাদের দখলে।

যদি শিপ্রাদের জবানবন্দি বা ভিডিও চিত্রে কোনো অসংগতি পাওয়া যেতো, তবে কি আর মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ থাকতো সিনহার সতীর্থদের।