মালয়েশিয়া পৌঁছেছে বলে নারী, শিশুসহ ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে সোনাদিয়ার চরে নামিয়ে দিয়ে ট্রলার নিয়ে পালিয়ে গেল একটি দালাল চক্র।

সোমবার (২১ মার্চ) কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে আটক রোহিঙ্গারা এমনটি জানিয়েছেন।

তাদের বরাত দিয়ে মহেশখালী কুতুবজুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এড. শেখ কামাল জানান, মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে বেশির ভাগই রোহিঙ্গা যুবতী নারী। এদের অনেকের বিয়ে ঠিক হয়েছে মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে। বিবাহিত নারীদের স্বামীরা আগে থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তাদের স্বামীরা দালালের মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছেন মালয়েশিয়াতে।

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া পৌঁছেছে বলে এদের সোনাদিয়া দ্বীপ নামিয়ে দিয়ে দালালরা বোট নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিক ওদিক ঘোরাঘুরিতে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিয়ে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে নারী-পুরুষসহ ১৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ৭৫ জন নারী, পুরুষ ৫১ জন ও ২৩ জন শিশু রয়েছে।

এই বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, সোনাদিয়া থেকে বোট রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাত ২টার দিকে কক্সবাজার ৬নং ঘাটে পৌঁছায়। সেখান থেকে ৩টি বাসে চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের উদ্দেশ্য রওনা দেয় তারা।

পুরুষরা উন্নত জীবনের আশায়, বিবাহিত নারীরা স্বামীর কাছে আর তরুণীরা বিয়ের আশায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ক্যাম্প ছেড়েছিলো। দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে জনপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে স্বপ্নের মালয়েশিয়া যেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে ওঠেছিলো।