সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের হাতে সরাসরি উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক তুলে দিতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার, আমাকে ক্ষমা করবেন, আপনাকে অভিনন্দন জানাই।’

রবিবার বিকালে মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদানের জন্য জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ তিন ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে দেয়া হয় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই পদক তুলে দেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হলে স্বাধীনতা থাকে না, বন্দি জীবনযাপন করতে হয়।’ এ সময় তিনি জানান, তার শিক্ষক এই পদক পাচ্ছেন, এটা তার তার জন্য অনেক গর্বের বিষয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য ২০২১ সালের এই সম্মননা পেলেন।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ এবং লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এ সম্মাননা পেয়েছেন।

এ বছরই প্রথম এই সম্মাননা দেয়া হলো। দুই বছর পরপর জাতীয় পর্যায়ে দুটি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুটি পদক দেয়া হবে।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক এবং নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক। তিনি প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষক।