কক্সবাজার জেলায় যে ক’জন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আছেন তাদের মধ্যে স.আ.ম শামসুল হুদা চৌধুরী অন্যতম। নামে নয়, যার পরিচয় কাজে। ১৯৯৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আজ তার ২৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

পুরো নাম সাইদুল আবরার মুহম্মদ শামসুল হুদা চৌধুরী, যিনি সর্বজন পরিচিত প্রিন্সিপাল শামসু মিয়া হিসেবে। কক্সবাজার সরকারি কলেজ, প্রিপ্যারটরী উচ্চ বিদ্যালয়, সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কক্সবাজার আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ এবং কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালণ করেন।

১৯২৫ সালের ১ মে পেকুয়ার গোয়াখালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সিরাজুল হক চৌধুরী ও মাতা দিলাঙ্গীর জান চৌধুরানী। পেকুয়া এমই স্কুলে ১ম-৬ষ্ঠ শ্রেণী, পরে ১৯৪০ সালে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ করেন।

সে সময় তিনি হাজী মুহম্মদ মহসীন বৃত্তিও লাভ করেন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, কলিকাতা ইসলামিয়া কলেজ (কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিস্টিংশনসহ) থেকে স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইতিহাস) বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ও ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন।

স.আ.ম শামসুল হুদা চৌধুরী বৈবাহিক জীবন শুরু করেন ১৯৫০ সালে। মহেশখালীর একটি হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান এবং সিএসএস লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে স্যার আশুতোষ কলেজ, কানুনগোপাড়া, চট্টগ্রামে ইতিহাসের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালে কক্সবাজার বার এ আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন, এছাড়া ১৯৫৯-১৯৬৩ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার টাউন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬২ সালে কক্সবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠা, অধ্যক্ষের দায়িত্বভার এবং কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন স.আ.ম শামসুল হুদা চৌধুরী। তৎকালীন পাকিস্তানের এমএলএ ও এমপিএ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাও করেন তিনি। ১৯৬৫ সালে পৌর প্রিপ্যারাটরি স্কুল, ১৯৮১ সালে সৈকত বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৩ সালে কক্সবাজার কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরগ্রহণ, কক্সবাজার জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন এবং সাম্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে কক্সবাজার আইন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন ও আইন কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯১ সালে।
১৯৯৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পরকালে পাড়ি জমান এ গুণিজন।