গণতন্ত্রের মানসপুত্র, অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আজ ১২৮ তম জন্মবার্ষিকী।

১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় তার জন্ম। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন দল ও সংগঠন আজ সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকালে রাজধানীর দোয়েল চত্বরের তিন নেতার মাজারে সোহরাওয়ার্দীর কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল।

বাংলা ও উপমহাদেশের প্রতিভাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। সোহরাওয়ার্দী তার গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ১৯২৪ সালে কলকাতা করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচন-উত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ১৯৪৩-৪৫ সালে খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে ১৩ মাস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন।

১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগকে ১৯৩৭ সালে বাংলায় সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং এর অগ্রযাত্রায় সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা ছিল অসামান্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরে গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত বছরের মধ্যে পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালে আইয়ুববিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর এই মহান নেতা মৃত্যুবরণ করেন।