প্রিয় হ্নীলা ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণ। আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার/আদাব।

রাত পেরোলেই শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও উন্নয়নে অনেক অনেক এগিয়ে থাকা আমাদের হ্নীলাবাসীর কাঙ্ক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আপনাদের পবিত্র ও মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন আপনাদের প্রতিনিধি। আপনাদের সেবক। আপনাদের সুচিন্তিত রায়ে আগামী ৫ বছরের হ্নীলা ইউনিয়নের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামীকাল সন্ধ্যায়। তাই বুঝেশুনে ভেবেচিন্তে আপনার ভোটাধিকার আপনি প্রয়োগ করুন নির্ভয়ে নির্দ্বিধায়। কাউকে ক্ষমতার চেয়ারে বসানোর মালিক আল্লাহ এবং আপনারা।আমি এ আপ্তবাক্যটি সবসময় বুকে ধারণ করি এবং লালন করার চেষ্টা করি।

প্রিয় প্রাণের হ্নীলার মানুষ

১০ মাস হতে চলেছে আমি আমার পিতাকে হারিয়েছি। পিতৃহীন শোকাচ্ছন্ন আমি পিতার আদর্শ বুকে নিয়ে প্রতিনিয়ত পথ চলার চেষ্টা করেছি। হ্নীলা ইউনিয়নের অলিগলি চষে বেড়িয়েছি। হ্নীলা ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে দিন নেই, রাত নেই ছুটে গিয়েছি। রাত ২ টায় ঘরে ডাকাত পড়েছে, রাত ১ টায় পাহাড় ধসে মানুষ মারা গেছে। আমি ১ সেকেন্ডও চিন্তা না করে ঘর থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়েছি। আমরা তিনভাই দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধ্যমতো মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। মাথার ছায়া হিসেবে বাবা থাকতে চলার পথে কোনোকিছুই কঠিন মনে হইনি। বাঁধাকে বাঁধা মনে হইনি কখনো। মনে মনে একটি অমীয় শক্তি কাজ করতো যে, আব্বু তো আছেন সবকিছু ম্যানেজ করে নিবেন। গত উপনির্বাচনেও আব্বুর ছকানুযায়ী আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে সফলকাম হয়েছিলাম। দেড়বছরের জন্য আপনারা আমাকে ম্যান্ডেট দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আব্বুর শূন্যতা আমাকে কুরেকুরে খাচ্ছে। যদিও আমার পিতৃসমতুল্য বড়ভাই আব্বুর অভাব তেমন একটা গায়ে মাখাতে দেননি। বড়ভাইয়ের আদেশ, নির্দেশ ও অপত্য স্নেহ আমাকে সাহস শক্তি জুগিয়ে সর্বদা নির্ভার রেখেছে।

প্রিয় হ্নীলাবাসী

আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন আমি গত উপনির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার ৫-৬ মাস পেরোতে করোনার ভয়াল থাবায় গোটা পৃথিবীর ন্যায় আমরাও ভয়ে আতঙ্কে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। চারিদিকে হাহাকার, মৃত্যুর মিছিলে মানুষের দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। সবাই ঘরবন্দী। কাজ নেই। চাকুরি নেই। অসহনীয় অভূতপূর্ব বিভীষিকাময় অবস্থা। এমতাবস্থায় আমি আমার জানবাজি রেখে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। রাত-বিরেতে চাল,ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে গিয়েছি। মানুষের ভেতরে সাহস জুগিয়েছি। সরকারি বরাদ্দ ও এনজিও সংস্থার অনুদান প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। পৃথিবীর স্থবির অবস্থায় হ্নীলা ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এনজিও সংস্থাকে আমি একবিন্দুও ছাড় দিইনি। তাদের বলে অনেক ভাইবোনের চাকুরির ব্যবস্থা করেছি। এনজিও অর্থায়নে যেখানে যেভাবে লেগেছে সেভাবে মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সাধারণ মানুষের সুবিধের জন্য নিজের পৈতৃক জায়গার মাঝখান দিয়ে উলুচামরি কোনাপাড়ার রাস্তা করে দিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা করতে গিয়ে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। তারপরও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে আমি বড় করে দেখেছি সবসময়। তবে পানখালী সড়ক ও আমার নিজের চলাচলের ফুলের ডেইল সড়কের কাজ করতে না পারায় আমার আপসোসের সীমা নেই। আল্লাহ যদি আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করে আমি কথা দিচ্ছি এদুটো রাস্তার জন্য আমার যেখানে যেভাবে যাওয়া লাগে সেখানে যাবো। আমি জানি মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে এ জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাদুটো নিয়ে অনেক কষ্টে আছেন। নির্বাচিত হলে আমার প্রথম প্রায়োরিটি থাকবে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়ক দুটোর কাজে দ্রুততার সাথে হাত দেওয়া। আশা করছি আপনারা সাথে থাকলে পাহাড়সম কঠিন কাজ করতেও আমার কোনোপ্রকার চ্যালেঞ্জ মনে হবে না।

এছাড়া গত ২ বছরে আমাদের ইউনিয়ন অনেক ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি মাদকের আগ্রাসন, নাফনদীতে মাছ ধরা বন্ধের কারণে জেলে ভাইদের দুর্বিষহ কষ্ট, রঙ্গিখালী রাস্তার মাথায় ডাকাতি বৃদ্ধি (আমার অত্যন্ত স্নেহের ছোটভাই ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মোহাম্মদ নূরের মৃত্যুর জন্য এ রাস্তার মাথাই দায়ী), গোষ্ঠীগত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের বিপথগামী হওয়া, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলে জনেমনে ভয়ভীতি ও উদ্বেগ বৃদ্ধি, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও ইয়াবাসেবীদের উৎপাত, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ, সামাজিক অনাচার সবকিছু আমাদের ইউনিয়নের অগ্রযাত্রার মূল অন্তরায় হিসেবে মনে হয়েছে। আপনারা আমাকে জয়যুক্ত করলে কথা দিচ্ছি উল্লিখিত বিষয়গুলোকে সর্বাগ্রে এড্রেস করে ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদের অনলাইন দুনিয়া থেকে সরিয়ে এনে বইমুখী, ক্রীড়ামুখী করার জন্য একটি গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠাসহ ইউনিয়নের মাঠগুলো প্রশস্তকরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে জোরালোভাবে গুরুত্বারোপ করবো।

২ বছরে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা, ভিজিডি চাল, ১০ টাকায় চাল, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগসুবিধা আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সুষমভাবে বিলিবন্টন করার চেষ্টা করেছি। এরপরও নাগরিক সেবা বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়ে অনেক মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তা আমি অকপটে স্বীকার করছি। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে। সব বিষয় আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি এমন নয়। সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেকদিনের জং ধরে থাকা শৃঙ্খল ভাঙতে আমার খানিকটা কষ্ট হয়েছে। আমি ওয়াদা করছি সমানের দিনে এসব বিষয়ে আমি আপনাদের ন্যূনতম কষ্ট হওয়ার মতো সুযোগ রাখবো না। আমি এটুকু শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি আমি তথা আমার পরিবার আপনাদের মঙ্গলের স্বার্থে সর্বত্র সবসময় ফাইট করতে সদা প্রস্তুত থাকবো। নির্বাচিত হলে একটি সমতাভিত্তিক, শিক্ষাদীক্ষায় বলীয়ান, ক্রীড়া ও সাহিত্যমুখী মডেল ইউনিয়ন বিনির্মাণে এলাকার আলেমওলামা, শিক্ষক, ময়মুরুব্বি ও সমঝদার মানুষজন নিয়ে ৫ বছরের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।

হ্নীলা ইউনিয়ন আমার নাড়ির জনপদ। এ জনপদে আমার প্রয়াত পিতা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী টানা তিনবার চেয়ারম্যান ও একবার সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের জীবনের ৬০ টি বছর এখানকার মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমৃত্যু এ এলাকার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কথা ভেবেছেন। আব্বু আমাকে সবসময় বলতেন জনগণকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসো, সবসময় তাদের পালস্ বুঝার চেষ্টা করো। দেখবে জনগণের ভালোবাসা তোমার জন্য কখনো ফুরাবে না। উপরে আল্লাহ, নিচে আপনারা, মাঝখানে বাবার কাছ থেকে পাওয়া পুঞ্জিভূত আদর্শ আমার চলার পথে একমাত্র সম্বল।

প্রিয় এলাকাবাসী

পরিশেষে আমি আপনাদের সবার কাছে অফুরন্ত দোয়া কামনা করছি। ২ বছরে আমার, আমার পরিবার, আমার চারপাশের মানুষজনের কৃতকর্মে কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকলে সবার হয়ে আমি করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমার পক্ষ থেকে কেউ অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকলে তারজন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আপনাদের অনেকের সন্তানসমতুল্য, অনেকের বন্ধুসম, অনেকের ছোটভাই, অনেকের বড়ভাইয়ের মতো। পথ চলতে গিয়ে আমার অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি আপনাদের চোখে পড়তে পারে। আমার বিরুদ্ধে অনেক অনুযোগ অভিযোগ থাকতে পারে। সবকিছু মাথা পেতে নিয়ে আাবারো বলছি প্রথমবারের মতো আপনারা আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। আমাকে দ্বিতীয়বারের মতো আপনাদের মূল্যবান ম্যান্ডেট দিন। আমি হলফ করে বলছি আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আপনাদের তথা হ্নীলা ইউনিয়নের মান-মর্যাদা রক্ষা করতে কখনো পিছপা হবো না। আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো আপনারা নিঃশঙ্কোচে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে আপনাদের মূল্যবান রায় প্রদান করুন। আমি দৃঢ়ভাবে আশা করছি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ব্যাতিরেকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আপনারা ভালোই ভালোই ভোট প্রদান করতে পারবেন। আমরা হ্নীলার মানুষ অত্যধিক শান্তিপ্রিয়। দেখবেন যেই জয়ী হোক ঠিকই ভোটের পরেরদিন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে হ্নীলারই বিজয় কেতন উড়াবো। হ্নীলার জয়গান গাইবো।

জয় হোক হ্নীলাবাসীর, জয় হোক হ্নীলার আপামর জনসাধারণের।

আমি আপনাদেরই –

রাশেদ মাহমুদ আলী

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী