দীর্ঘ ১১ মাসের বেশি সময় পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্কুলে ফিরলো শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলায় খুশি শিক্ষার্থীরা। এতদিন পর স্কুলে এসে সহপাঠীদের পাশে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। পাশাপাশি অভিভাবরাও আনন্দিত।

শুক্রবার সরকারি নির্দেশ মতো প্রাথমিকভাবে নবম ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়েছে।

এদিন ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে দেখা গেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ চলমান করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে স্বাস্থবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করায় স্কুলে। সকালে শিক্ষার্থীদের লাইন ধরে করে দাঁড় করিয়ে থার্মাল স্ক্যানিং ও সানিটাইজ করে প্রবেশ করানো হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি যেসব অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে ছাড়তে আসবেন তাদের সবাইকেও মাস্ক পরতে হবে।

এর পাশাপাশি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে কোনো শিক্ষার্থীর জ্বর বা শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে তারা যেন স্কুলে এখনই না আসে। সব শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ঢোকার আগে যেমন স্যানিটাইজ করতে হবে তেমনি ছুটির পর চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চগুলো স্যানিটাইজ করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। এর সাথে প্রতি বেঞ্চে এক বা দুই জনের অধিক শিক্ষার্থী বসতে দেওয়া যাবে না। বিদ্যালয়ে ঢোকার মুখে থার্মাল স্ক্যানিং ও স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা বলা হয়েছে, টিফিন এবং বোতলের পানি সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগ করা যাবে না। এমনকি টিফিনের সময় খেলাধুলা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে প্রতিটি স্কুলে আইসোলেশন রুম রাখতে হবে। যাতে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেই মুহূর্তে অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়।

এছাড়া স্কুলে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই স্কুল গেটের বাইরে যেতে না পারে। সমস্ত বিষয় শিক্ষকদের সঙ্গে নজরে রাখতে হবে বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং স্থানীয় প্রশাসনকে।

এছাড়া পঠন-পাঠনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পাঠদান। তবে সবকিছুর পর স্কুলে যেতে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়া এখনও অনেক স্কুল খোলেনি কলকাতায়। খুব শিগগিরই সেগুলোও খুলে যাবে।