নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত আদমজী জামে মসজিদটি পাকিস্তান আমলে নির্মিত। কোন দরজা জানলা না থাকায় মসজিদটি বিখ্যাত।

দরজা-জানালা ছাড়াই মসজিদে রয়েছে ১৯টি প্রবেশপথ।

এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী পাটকল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী সোনামিয়া বাজার সংলগ্ন বিহারী ক্যাম্পে ঐতিহ্যবাহী এ জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এ মসজিদের প্রধান আকর্ষণ হলো মসজিদের সামনে শান বাধানো পুকুর ও খোলামেলা চারিদিক। যদিও বর্ষায় এতে কিছুটা সমস্যা হয় তবে এ নিয়ে সমস্যা নেই মুসল্লিদের।

মসজিদের রয়েছে একটি সুদীর্ঘ মিনার। চারপাশ জুড়ে সবুজের সমারোহ। আর মসজিদের নির্মাণশৈলী দেখে যে কেউ প্রশংসা করবে। শৈল্পিকতার অন্যতম নিদর্শন দরজা-জানালাবিহীন এ মসজিদটি ৭৭ বছরের পুরনো।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থ তিন পাশের বারান্দার ছাদটি মোট ৭০টি পিলারের ওপর নির্মিত। মসজিদটি ১৯৪৫ সালে আদমজী মিল স্থাপনের সময় তৎকালীন ধনাঢ্য বাইশ পরিবারের অন্যতম গুল মোহাম্মদ আদমজী শ্রমিক-কর্মকর্তাদের জন্য মিলের অভ্যন্তরে নির্মাণ করেন। প্রায় ২ একর জায়গার ওপর অবস্থিত মসজিদটি ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৬৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট ১২টি সুদর্শন থামের ওপর স্থাপিত। পশ্চিম দিক ছাড়া বাকি তিন দিকেই রয়েছে প্রস্থ বারান্দা। মসজিদটির উপরিভাগে রয়েছে ছোট ছোট আটটি গম্বুজবেষ্টিত একটি বড় গম্বুজ। পূর্ব-দক্ষিণ কোণে অবস্থিত সুইচ্চ একটি মিনার, যেখানে ওই সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় খালি গলায় মুয়াজ্জিন আজান দিতেন।

বর্তমানে এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৩ হাজারের অধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। পূর্বে এই মসজিদে একজন খতিব, একজন পেশ ইমাম, দুইজন মুয়াজ্জিন, একজন করে খাদেম, মালী ও সুইপার কর্মরত ছিলেন যার ব্যয়ভার আদমজী জুট মিল বহন করতো। আর্থিক সংকটে জনবল কমে গিয়ে বর্তমানে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ চারজনে নেমে এসেছে।

দীর্ঘ ১৯ বছর ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসা এ মসজিদের খতিব হাফেজ মো. সোলায়মান জানান, মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। মসজিদে আল্লাহকে ডাকতে কখনো দরজা জানালা লাগে না। বান্দা যখন চাইবে এখানে এসে আল্লাহকে ডাকতে পারবে। মূলত এই নীতিকে বোঝাতেই এভাবে খোলামেলা মসজিদ তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। এর প্রবেশদ্বার, যা কখনোই বন্ধ হবে না। এ মসজিদ ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। সেজন্য অনেকেই এই মসজিদটিকে খোলা মসজিদ বলে থাকে। এছাড়া মজসিদটি গরমের মধ্যেও সবসময় শীতল পরিবেশ বিরাজমান থাকে।