দুর্নীতির দায়ে দশ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম আগামী ২৫ মের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। পুরান ঢাকার এই সাংসদ থাইল্যান্ড সফর করে দেশে ফেরার পর তার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের এতথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হাজী সেলিম। এরও আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন হাজি সেলিম।

হাজি সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী মহিউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘দেশে ফিরেই নির্বাচনী এলাকা লালবাগের শাহানি বেগম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার জানাজায় অংশ নেন হাজী সেলিম।’

গত সপ্তাহে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ১০ বছর কারাদণ্ড বহালের রায় নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সোমবার বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাজী সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন।

এই আপিলের শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের দেয়া ১৩ বছর সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রাখেন।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজি সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লালবাগ থানায় দায়ের করা ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল পৃথক দুটি ধারায় হাজী সেলিমকে ১০ বছর ও তিন বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।