অবশেষে ৩৬ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় এক বৈঠক শেষে সাড়ে চারটায় তারা চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করেছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবারই কক্সবাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের দাবিতে অভিযুক্ত গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানকে পেকুয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

এর আগে হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ শাখার সদস্যরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমন সেন জানান, শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের শাস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনার বিষয়ে পুনঃতদন্তের আশ্বাসে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় যোগ দিয়েছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের দাবি, গত ২৬ নভেম্বর হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ করেন তারা। শুধু দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক নয়, রোগী ও তাদের স্বজনকেও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি উল্টো হাসপাতালে কর্মরত ছয় ইন্টার্ন চিকিৎককে শাস্তির সুপারিশ করে। তাদের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি মোস্তায়ীন বিল্লাহ তকী, সাধারণ সম্পাদক ইমন সেন, অর্ণব দাশ, মোহাম্মদ হোসাইনের তিন মাসের বেতন কাটার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ডা. তরিকুল ইসলাম আবিদের এক মাসের বেতন কাটার পাশাপাশি দুই মাস এবং মোহাম্মদ মুস্তফা ইমনকে দুই মাসের বেতন কাটা ও একমাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের শাস্তির সুপারিশ করেন ডা. মাহফুজের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি।

এ কারণে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ঘোষিত শাস্তি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মে ফিরবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক রোগীর স্বজনরা।

অপরদিকে ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জারি করা আদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় শুক্রবারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখে ইন্টার্নরা। এ অবস্থায় হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি, তত্বাবধায়ক, আরএমওসহ সংশ্লিষ্টরা ইন্টার্নদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তাদের শাস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সকল ঘটনার বিষয়ে পুনঃতদন্তের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় যোগ দেন ইন্টার্নরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. মমিনুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো এক কারণে’ ইন্টার্ন চিকিৎসা ডা. মাহফুজুর রহমানকে তার অফিসের দরজা বন্ধ করে মারধর করে। বিষয়টি জানার পর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন হলে ডা. মাহফুজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেন নারী ইন্টার্নরা। তাকে প্রত্যাহার বা তদন্ত কমিটি গঠনের আগে কেন এসব অভিযোগ করা হয়নি, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা (ইন্টার্নরা)। এরপরও তাদের অভিযোগও আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ডা. মাহফুজের অশালীন আচরণের প্রমাণ মেলে। এরপরই তাকে অন্যত্র বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়। পাশাপাশি ডা. মাহফুজকে প্রহারকারী ছয় ইন্টার্ন চিকিৎসককে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি ঘোষণা করা হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা কর্মবিরতি শুরু করে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানোর পরই সন্ধ্যার পর ডা. মাহফুজের বদলি আদেশও আসে। শুক্রবার তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।