তিন পাবর্ত্য জেলার ৬৫ ভাগ মানুষের ঘরে আছে বিদ্যুতের আলো। দূর্গম বেশ কিছু এলাকায় আলোর চাহিদা মেটাচ্ছে সৌর বিদ্যুত। প্রথম দফায় দেয়া হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার সৌর বিদ্যুৎ।

৬৫ ওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎ সরঞ্জাম বাজারে পাওয়া যায় ১৭ হাজার টাকায়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সেটি কিনেছে ৩৬ হাজার টাকায়। যার বেশির ভাগই আবার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো এখনো টিকে আছে তাতেও নিভু নিভু আলো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, ৬৫ ওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎ সরঞ্জাম কিনেছে ৩৪ হাজার টাকায়। আর ১২০ ওয়াটের জন্য খরচ হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। দেশের কয়েকটি কোম্পানির কাছে একই ধরণের সৌর বিদ্যুত ব্যবস্থার দাম যাচাই করে দেখা গেছে; ১৫ শতাংশ লাভ ধরেও ৬৫ ওয়াটের একটি দাম ১৭ হাজার টাকা।

আর ১২০ ওয়াটের দাম ২৪ হাজার টাকা। অথচ একই সরঞ্জাম কিনতে দ্বিগুনেরও বেশি টাকা খরচ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। দাম ও মানের বিষয়ে চীন ও ভারতের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ই-মেইলে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন উত্তর দেননি। এদিকে বাজার মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সৌর বিদ্যুৎ কেনার আদেশ দিলেও এখন অন্যদের উপর দায় চাপাচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক।

বেশি অর্থ দিয়ে কেনা সত্বেও সৌর বিদ্যুৎ সরঞ্জাম বছর না পেরোতেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তালিকার ঠিকানা ধরে সুবিধা ভোগীদের বাড়ি গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

দূর্গম পাহাড়ি এলাকার কারণে সহসা বিদ্যুৎ পৌছাবে না শুধুমা্ত্র এমন এলাকার বাসিন্দাদের বিনামূল্যে সৌর বিদ্যুত দেয়ার কথা ছিলো সরকারের। কিন্তু বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়ার বটতলী পাড়াসহ কয়েকটি এলাকার প্রভাবশালীরা গ্রীড লাইনের বিদ্যুৎ থাকার পরও পেয়েছে বিনামূল্যের সৌর বিদ্যুৎ ।

এখন আবার ২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন পার্বত্য জেলার ৪০ হাজার পারিবারকে সৌর বিদ্যুৎ দেয়ার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।